ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। এ সময়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৩০ জন। আগের দিন রোগী সংখ্যা ছিল ৪৭০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবারও কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার মশাবাহিত এ রোগে তিনজন, রবিবার একজন আর শনিবার চারজনের মৃত্যুর খবর দেয় অধিদপ্তর।
সর্বশেষ হাসপাতালে ভর্তি ৪৩০ জনকে নিয়ে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হলো আট হাজার ৯৬৪ জন। আর চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগী সংখ্যা ২৯ হাজার ৯৪৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১২০ জনই বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৩ জন, ঢাকা বিভাগে ৬৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৩৭ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৬৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন, রাজশাহী বিভাগে ৩১ জন আর রংপুর বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পাঁচজন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে জুলাই মাসে, ১০ হাজার ৬৮৪ জন। এছাড়া জুন মাসে ৫ হাজার ৯৫১ জন, জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।
সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের; আর চলতি বছরে ১১৮ জনের। তাদের মধ্যে ৬৭ জন পুরুষ; ৫১ জন নারী।
এ বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি, ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে জুলাই মাসে। আগস্টের ২৫ দিনে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া জুন মাসে ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন জন, এপ্রিলে সাত জন, মে মাসে তিন জন মারা যায়। মার্চ মাসে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি।
২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গুর তথ্য রাখতে শুরু করে সরকার। সে বছরে রোগী ছিল ৫ হাজার ৫৫১ জন। এই রোগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ মৃত্যুও দেখে বাংলাদেশ।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন; তার মধ্যে মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

