Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

বিদ্যুৎকেন্দ্র না বাড়িয়ে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ সিপিডির

সিপিডি আয়োজিত সেমিনারে কথা বলছেন বক্তারা। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
সিপিডি আয়োজিত সেমিনারে কথা বলছেন বক্তারা। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
[publishpress_authors_box]

দেশে নতুন করে আর বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি না করে বিদ্যমান সক্ষমতায় দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। পাশাপাশি উন্নত সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে মানসম্মত বিদ্যুতের ওপর মনোনিবেশ করার পরামর্শও তাদের।

এছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে পরিবেশবান্ধব সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।

রবিবার ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৫ : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার থেকে এসব  পরামর্শ উঠে আসে। ঢাকার মহাখালীর ব্রাক সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করেছিল সিপিডি।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট। বিতরণ করা হচ্ছে ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।

২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে আনুমানিক ১৯ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াটের।

সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সিপিডি বলছে, এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি যেমন এক দিকে বাজেটের ওপর বোঝা হয়েছে অন্যদিকে অনেকগুলো তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। এই আমদানি ব্যয় মেটাতে খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডলার, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত সরকারের হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। আর বাকী ৪৬ দশমিক ৪০ শতাংশই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরও আমাদের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অথচ এর মধ্যে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চুক্তি অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।”

এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে গিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সিপিডি নিজস্ব বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের চাহিদা হবে ১৯ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াটের। অথচ সরকার এই সময়ের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনও প্রয়োজন নেই।

বরং এই সময়ে পরিবেশবান্ধব সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত অনেক বেশি টেকসই হবে বলে মনে করে সিপিডি। এক্ষেত্রে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারকে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শতভাগ কর ছাড় দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

এছাড়া ক্রমান্বয়ে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার সঙ্গে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরবরাহ দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জ্বালানি তেলের আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশে গ্যাস কুপ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সিপিডি।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “২০২৫ সালের মধ্যে যে ২৫টি গ্যাস কুপ খননের লক্ষ্য ছিল তা থেকে সরকার এরই মধ্যেই পিছিয়ে পড়েছে। গ্যাস আমদানি কমিয়ে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে হলে গ্যাস অনুসন্ধ্যান ও কুপ খননে আরও জোর দিতে হবে।”

গ্যাস আমদানি কমাতে না পারলে দেশের অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সেমিনারে আরও কথা বলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, বিদ্যুৎ বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. ম তামিম।

এ কে আজাদ বলেন, “শিল্প খাতে বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ করে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল নিরবচ্ছিন্ন ও কোয়ালিটিসম্পন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে।  কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন আমরা বিদ্যুতের দ্বিগুণ দাম দিচ্ছি। আবার দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ক্যাপটিভ পাওয়ার লাগছে। অন্যদিকে ৯ শতাংশ ব্যাংকের সুদ উঠেছে ১৪ শতাংশ।”

সবমিলিয়ে দেশের শিল্পায়ন চাপে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছে ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ, কাঁচামাল আমদানি কমেছে ১০ শতাংশ।

তিনি বলেন, দেশে যদি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হয় তাহলে অবশ্যই সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, “সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অদক্ষতার কারণেও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাড়ছে। যেমন-গত অর্থবছরে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট উৎপাদনে না গেলেও চুক্তি অনুযায়ী প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।”

১৯৯৬ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে কোনও নীতিমালা গ্রহণ করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী ২০ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই যথেষ্ট বলেও মত দেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত