ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সোয়া ২ কোটি টাকা চেক পেয়েছে পুুলিশ।
রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্যোগে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নামে যে ছাত্র সংগঠন গঠিত হয়েছে, সেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন রিয়াদ। তার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।
অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মীর বাড়ি থেকে গত ২৬ জুলাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিয়াদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ।
গ্রেপ্তার রিয়াদকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
বুধবার ডিএমপির কর্ম তৎপরতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে উপ-কমিশনার তালেবুর বলেন, “রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় পাঁচজন রিমান্ডে রয়েছেন। তাদের একজনের বাসা েথকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।”
এই ঘটনায় কলাবাগান থানায় আলাদা একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে উপ-কমিশনার তালেবুর বলেন, রিয়াদের নাখালপাড়ার বাসা েথকে ওই চেকটি উদ্ধার করা হয়।
রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে গুলশান, বারিধারা এলাকার চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিলেন।
গত ১৭ জুলাই শাম্মী আহমেদের বাসায় পুলিশ নিয়ে গিয়েছিলেন রিয়াদ। পুলিশকে বলা হয়েছিল, সেখানে পলাতক আসামিরা রয়েছে। কিন্তু সেদিন ওই বাসায় কোনো পলাতক আসামিকে না পেয়ে ফিরে যায় পুলিশ সদস্যরা। এরপর শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন রিয়াদসহ অন্যরা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর আরও ৪০ লাখ টাকা নিতে দুই দফায় শাম্মী আহমেদের বাসায় যান রিয়াদ ও তার সঙ্গীরা। পুলিশ জানতে পেরে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছিল।
২৬ জুলাই যখন রিয়াদ তার সঙ্গীদের নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখনই তাকে হাতে-নাতে ধরা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন্স) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন।
শাম্মী আহমেদের স্বামী বিষয়টি আগে জানালে চাঁদাবাজি ঠেকানো যেত বলে দাবি করেন উপ-কমিশনার তালেবুর।
তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী আগেই যদি পুলিশকে জানাতেন, তাহলে এ অপরাধ ঠেকানো যেত। কী কারণে তারা চাঁদা দিয়েছিল, তাদের কোনও দুর্বলতা ছিল কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
এই চাঁদাবাজির সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না- জানতে চাইলে তালেবুর বলেন, “কারও দলীয় পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়। তদন্ত চলছে। আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্তে জানা যাবে।”