নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবলের সম্পর্কটা আবেগের। এই মাঠেই ২০২২ ও ২০২৪ সালে নারী সাফের দুটি শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। বিপ্লব-আলফাজরা এই দশরথেই ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে ফুটিয়েছেন প্রথম শ্রেষ্ঠত্বের ফুল।
একই মাঠে নেপালের বিপক্ষে ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে জামাল ভূঁইয়ারা। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ম্যাচ দুটি খেলছে বাংলাদেশ।
বাস্তবতা হচ্ছে, দশরথ স্টেডিয়ামকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা ও এএফসি। এজন্য ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বরের পর এখানে ফিফা-এএফসি স্বীকৃত কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ইয়েমেনের সঙ্গে নেপালের সেই ম্যাচের ৬৫৫ দিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিরছে দশরথ স্টেডিয়ামে। ৬ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপাল।
দশরথ স্টেডিয়ামের সমস্যা আসলে কী? ফিফা ও এএফসির প্রতিবেদন বলছে, প্রথম সমস্যা মাঠ। এখানে খেললে চোটের শঙ্কা থাকবে ফুটবলারদের। হামজা চৌধুরীকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য লিস্টার সিটির না ছাড়ার অন্যতম কারণও এটা। হামজা অবশ্য এমনিতেই চোটে পড়েছিলেন লিস্টারের হয়ে সবশেষ খেলা ম্যাচে।

তাছাড়া দশরথ স্টেডিয়ামের সমস্যা হচ্ছে ড্রেসিংরুম ও ফ্লাডলাইট। রাতে এখানে খেললে আলোর মায়াবী বিভ্রমে পড়েন খেলোয়াড়রা। খেলোয়াড়, দর্শক, ভিআইপি কিংবা ভিভিআইপিদের প্রবেশ ও বের হওয়ায়র পথ একটাই! গ্যালারির সিট আর পর্যাপ্ত সিসিটিভি না থাকাতেও খুশি নয় ফিফা ও এএফসি। তাই ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর থেকে ফিফা ও এএফসি টুর্নামেন্টের নিজেদের হোম ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলছে নেপাল।
এই বছরের ১৪ অক্টোবর ভিয়েতনাম ও ১৮ নভেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক হোম ম্যাচ রয়েছে নেপালের। এজন্য এএফসির প্রতিনিধি দল সম্প্রতি দশরথ স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে গেছে। এখনও এই স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছে সেই প্রতিনিধি দল। তাই ম্যাচ দুটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে হবে নেপালকে। একই কারণে এ বছরের ২২ মার্চ বাহরাইন ও ৬ জুন আরব আমিরাতের বিপক্ষে হোম ম্যাচ দুটিও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলেছে নেপাল।
প্রশ্ন হচ্ছে, ফিফা ও এএফসির নিষিদ্ধ মাঠে কেন দুটি ম্যাচ খেলতে রাজি হলো বাংলাদেশ? শুধু তাই নয় প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে দুটি মাঠ-নেপাল আর্মি হেডকোয়ার্টার্স ও চ্যাসল স্টেডিয়াম। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই দুটি মাঠ পরিদর্শন করে প্রস্তুতির জন্যও ‘আনফিট’ ঘোষণা করেছিল এএফসির প্রতিনিধি দল। এসব মাঠে খেলে কোনও ফুটবলার ইনজুরিতে পড়লে এএফসি বাছাই পর্বে প্রভাব পড়বে দলের কম্বিনেশনে। তাহলে এই ঝুঁকি নেওয়া কেন?
এমন প্রশ্নে দেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন- ২০০৩ সাফ জেতা দলের অধিনায়ক রজনীকান্ত বর্মন সকাল সন্ধ্যাকে বললেন, “অবশ্যই এটা ঝুঁকির। ফিফা আর এএফসি যে মাঠে খেলা নিষিদ্ধ করেছে, সেই মাঠে খেলা অবশ্যই ঝুঁকির। সিদ্ধান্তটা বাফুফে নিয়েছে। এ নিয়ে আমার মন্তব্য করার কিছু নেই।” এ বিষয়ে জানতে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি।

নিষিদ্ধ স্টেডিয়ামে খেলায় বাংলাদেশ কি নিষিদ্ধ হবে? না এমন কোনও শঙ্কা নেই। কারণ দশরথ নিষিদ্ধ জেনেও খেলতে আপত্তি জানায়নি খোদ বাফুফে, তাই বাধা দেয়নি ফিফাও।
এ নিয়ে ‘অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের’ কম্পিটিশন ডিরেক্টর সঞ্জিব মিশ্রা পরিষ্কার করলেন ধোঁয়াশাটা। ‘কাঠমান্ডু পোস্টকে’ তিনি বলেছেন , “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ দশরথ স্টেডিয়ামে খেলার জন্য ফিফার কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। ফিফাও খেলার অনুমোদন দিয়েছে, কারণ আমাদের দুই দলের এই মাঠে খেলতে কোনও আপত্তি নেই। তবে ফিফা বা এএফসির টুর্নামেন্টের কোনও ম্যাচ হলে এখানে খেলার অনুমতি নেই।”
সবার জন্য প্রবেশের একটা মাত্র পথ থাকায় সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশ ম্যাচের জন্য ১৫ হাজার গ্যালারির টিকিটের মধ্যে ৮ হাজার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
তাছাড়া একেকটা ম্যাচের জন্য একেক রকম মানদণ্ড থাকে। তাই বাহরাইন, আরব আমিরাত, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলার অনুমতি না পেলেও দশরথ স্টেডিয়ামে এএফসিরই ক্লাব টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলে গেছে পারো এফসি ও বয়েজ ইউনাইটেড নামের দুটি দল। একই কারণে খেলতে সমস্যা নেই বাংলাদেশের। তবে কেউ ইনজুরিতে পড়লে ঝুঁকিটা বাংলাদেশেরই। জেনেশুনে সেই ঝুঁকি নেওয়া কেন?



