৭ উইকেটে দিন শেষ করার দুয়ারেই ছিল আয়ারল্যান্ড। তাইজুল ইসলাম হতে দেননি সেটা। দিনের শেষ বলে জর্ডান নিলকে এলবিডব্লু করলেন তিনি। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। টিভি আম্পায়ার আউট নিশ্চিত করতেই বেল ফেলে দিয়েছেন আম্পায়ার। ৮ উইকেটে ২৭০ রান তুলে সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে আয়ারল্যান্ড।
৭৬ বলে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন পল স্টার্লিং। কেড কারমাইকেল করেন ৫৯। বাংলাদেশের পক্ষে ৫০ রানে ৩ উইকেট মেহেদী হাসান মিরাজের। অভিষিক্ত হাসান মুরাদ ৪৭ রানে নেন ২ উইকেট। এছাড়া ১টি করে উইকেট হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামের। বাংলাদেশ ৫টি ক্যাচ না ফেললে অন্যভাবেও শেষ হতে পারত দিনটা।
মিরাজের ৩ উইকেটে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ
প্রথম ওভারে উইকেট এনে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। তারপরও বাংলাদেশের গতাশা বাড়িয়ে চলেছিলেন পল স্টার্লিং ও কেড কারমাইকেল। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন গড়েন ৯৬ রানের জুটি। ৬০ রান করা স্টার্লিংকে ফিরিয়ে জুটিটা ভাঙেন নাহিদ রানা। কারমাইকেল ও স্টার্লিংয়ের ৯৬ রানের জুটি টেস্টে দ্বিতীয় উইকেটে আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ।
এরপর বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও অভিষিক্ত হাসান মুরাদ। মিরাজ ৩টি আর হাসান নিয়েছেন ২ উইকেট। ৮২ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪১ করেছে আয়ারল্যান্ড।
অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে সপ্তম উইকেট এনে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সামনে এগিয়ে মারতে গিয়েছেন ম্যাকব্রাইন। বল ধরেই চোখের পলকে স্টাম্প ভেঙে দিয়েছেন উইকেটকিপার লিটন দাস। ২২২ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করছেন ব্যারি ম্যাকার্থি ও জর্ডান নিল। জর্ডান ১৪ ও ম্যাকার্থি ব্যাট করছেন ৮ রানে।

কার্টিস ক্যাম্ফারকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেট পেয়েছিলেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। এরপর লোরকান টাকারকে স্টাম্পিং করিয়ে বাংলাদেশকে ষষ্ঠ উইকেট এনে দিয়েছিলেন হাসান মুরাদ।
মুশফিকের স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড লিটনের
গত জুনে গলে প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার ওপেনার লাহিরু উদারাকে স্টাম্পড করেছিলেন লিটন দাস। টেস্ট লিটনের সেটি ছিল ১৫তম স্টাম্পিং। মুশফিকুর রহিমের স্টাম্পিংও ১৫টি, া এত দিন এটাই ছিল বাংলাদেশের উইকেটকিপারদের স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড।
আজ সিলেটে সেই রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন লিটন। হাসান মুরাদের বলে লোরকান টাকারকে স্টাম্পড করেই রেকর্ডটা করেছেন লিটন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে ফিরিয়েছেন লিটন যা তার ক্যারিয়ারের ১৭তম স্টাম্পিং।
সিলেটে একের পর এক ক্যাচ মিস বাংলাদেশের
ক্যাচ মিসের মহড়াই চলছে সিলেট টেস্টে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে লাঞ্চের আগেই অন্তত চারটি ক্যাচ ছেড়েছেন বাংলাদেশি ফিল্ডাররা।
নাহিদ রানার করা চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে স্লিপে পল স্টার্লিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন সাদমান ইসলাম। ডাইভ দিতে হলেও রুটিন ক্যাচ ছিল। হাতে রাখতে পারেননি।
হাসান মাহমুদের করা পরের ওভারের চতুর্থ বলে পুল করেছিলেন টেস্ট অভিষিক্ত কারমাইকেল। স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তাইজুল ইসলাম ক্যাচটি নিতে পারেননি।
ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে নাহিদ রানাকে ব্যাকফুটে খেলতে যান পল স্টার্লিং। গালি অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা মিরাজ ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। তাঁর হাত থেকে এরপর ঝরতে থাকে রক্ত। এরপর মাঠ ছেড়ে যান মিরাজ।
মাঠ ছেড়েছেন তাইজুল ইসলামও। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে লেগে খেলতে যান ক্যাড কারমাইকেল। ডিপ মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা তাইজুল ক্যাচ মিস করেছেন। ডান হাতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

বাংলাদেশি ফিল্ডারদের এমন মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২১ ওভারে ১ উইকেটে ৭৬ রান করেছে টস জিতে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই হাসান মাহমুদ এলবিডব্লিউ করেছিলেন আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বলবার্নিকে। সেই আউটের সময় দেখা গেল অদ্ভুত এক দৃশ্য।
বালবির্নির ব্যাট এবং বলের মাঝে দুরত্ব দৃশ্যমান থাকলেও, তিনি রিভিউ নিলে ডিআরএসে দেখাচ্ছিলো স্পাইক। যদিও, সিদ্ধান্ত যায় আম্পায়ারের পক্ষেই।
০ রানে ১ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ছেন পল স্টার্লিং ও কেড কারমাইকেল। হাফ সেঞ্চুরি তুলতে ভুল করেননি দুবার জীবন পাওয়া স্টার্লিং। নিজের খেলা ৬১তম বলে হাসান মাহমুদকে চার হাঁকিয়ে আসে তার হাফ সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি দ্বিতীয় ফিফটি। স্টার্লিং ৫২ ও কারমাইকেল ব্যাট করছিলেন ২২ রানে।
বাংলাদেশ একাদশ : নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, হাসান মুরাদ ও নাহিদ রানা।
আয়ারল্যান্ড একাদশ : অ্যান্ডি বলবার্নি (অধিনায়ক), পল স্টার্লিং, কেড কারমাইকেল, হ্যারি টেক্টর, কার্টিস ক্যাম্ফার, লোরকান টাকার, জর্ডান নিল, অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন, ব্যারি ম্যাকার্থি, ম্যাথু হামফ্রেস ও ক্রেগ ইয়াং।



