আইসিসির নতুন নিয়ম শুরু হয়েছে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে। এতে ৩৫ ওভার পর দুই প্রান্ত থেকে ব্যবহার হওয়া দুই বলের যে কোন একটি বেছে নিতে পারেন ফিল্ডিং অধিনায়ক। মেহেদি হাসান মিরাজ কোন বল নেবেন তা একমাত্র তার সিদ্ধান্তেই নিতে পারবেন। সেখানে কেউ তাকে বাধা দেওয়ার নেই।
আইসিসির নিয়ম মতো এমন স্বাধীণতা বাংলাদেশ অধিনায়কের মতামত প্রকাশ ও সঠিক পরিকল্পনা গড়ায় থাকতে পারতো। কিন্তু মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে যেমনটা বললেন, মনে হচ্ছে জয়ের জন্য সঠিক পরিকল্পনার চেয়ে ব্যাটারদের ইচ্ছে মতো খেলার লাইসেন্স দেওয়া আছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৯৯ রানে হারের পর মিরাজ বলেছেন, “মাঠ একটু বড় ছিল। আমরা হয়তো চার মারতে পারতাম বা সিঙ্গেলস নিতে পারতাম। যেহেতু এখানে আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটা ব্যাপার থাকে, যে যে রকম ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে….আমি হয়তো উড়িয়ে মারতে পছন্দ করি। আমাদের টপঅর্ডার ব্যাটাররা কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। বাউন্ডারি মারতে পছন্দ করে। ওটাকে যদি আমি সাপোর্ট না করে আটকে দেয়, তাহলে দলের জন্য কঠিন হবে।”
অথচ নিজের মতো খেলার চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি মতো খেলার কথাই লেখা থাকে ক্রিকেট ব্যাকরণে। শুধু ব্যাকরণ কেন! সাধারণ চিন্তাতেও ম্যাচ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তায় যেতে চাইবে যে কোন দল।
যেমন শ্রীলঙ্কা ১০০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর লম্বা জুটি গড়েছে। ১১৪ বলে ১২৪ রানের ইনিংসে ১৮টি চার মেরেছেন কুশল মেন্ডিস। কিন্তু ৫০ রানের মধ্যে ছিল মাত্র চারটি চার। এছাড়া পুরো ইনিংসেই কোন ছয়ের মার মারার চেষ্টা করেননি লঙ্কান ব্যাটাররা।
মেন্ডিস-আসালাঙ্কা বড় জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে আনেন। আগের ইনিংসে তাদের ব্যাটিং দেখেও শিখতে পারেননি বাংলাদেশ ব্যাটাররা। ২৮ রান করে ভালো জুটির শুরুটা বড় শট নিতে গিয়ে ভেস্তে দেন পারভেজ হোসেন ইমন। এমনকি অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও ওই ২৮ রানেই সম্ভাবনাময় জুটির ইতি টানেন ছক্কার খোঁজ করতে গিয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বড় শট না নিলে রানের চাকা এগোতো না। অথচ লঙ্কানরা সিঙ্গেল-ডাবলস নিয়ে কঠিন সময় পার করেছে, এরপর বড় শটে চার হাঁকিয়েছে। মিরাজ মেনে নিয়েছেন ৩০-৪০ রানের জুটি দিয়ে ওয়ানডেতে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করা যায় না। তিনি বুঝেছেন, বাকি ব্যাটাররা বুঝবেন কবে? মিরাজই বাকি ব্যাটারদের বোঝাবেন কবে?



