Beta
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
Beta
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা

ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ছবি : হারুন-অর-রশীদ
ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ছবি : হারুন-অর-রশীদ
[publishpress_authors_box]

রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে।

প্রথম আলো জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে একদল বিক্ষোভকারী এই হামলা চালায়। তারা ভবনটির নিচতলায় আগুন দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একদল বিক্ষোভকারী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা কেন্দ্রীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। একপর্যায়ে কার্যালয়ের নিচতলায় আগুন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও লাঠিপেটা করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। জলকামান দিয়ে পুলিশ আগুন নিভিয়ে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। হামলার সময় বিক্ষোভকারীরা ভবনের সামনে টানানো জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের ছবি ভাঙচুর করে।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সেখানে মোতায়েন রয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। তবে জাতীয় পার্টি বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

পরে পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও লাঠিপেটা করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ছবি : হারুন-অর-রশীদ
পরে পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও লাঠিপেটা করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ছবি : হারুন-অর-রশীদ

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরের ওপর ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে, নৃশংস এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না এবং দ্রুততার সঙ্গে এ ঘটনার বিচার সম্পন্ন করা হবে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার কথা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানোর পর ডিএমপির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এসেছে।

প্রথম আলো জানিয়েছে, জাতীয় পার্টিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করাসহ তিনটি দাবি জানিয়েছে গণ অধিকার পরিষদ। অন্য দাবি দুটি হলো, শনিবারের মধ্যে নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা এবং শুক্রবারের হামলার ঘটনার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।

শনিবার বিকালে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে দাবিগুলো তুলে ধরেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত