Beta
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
Beta
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

মাইলস্টোনের আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩

মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের বেশিরভাগই রয়েছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের বেশিরভাগই রয়েছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
[publishpress_authors_box]

বিমান বিধ্বস্তের পর অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের আরও দুই শিক্ষার্থী মারা গেছে। তাদেরকে নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হলো।

ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা তাসনিম আফরোজা আইমানকে শুক্রবার সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয় মাকিনকে।

গত ২১ জুলাই সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ১০ বছর বয়সী আইমানের শরীরের ৪৫ শতাংশ এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৩ বছর বয়সী মাকিনের শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়। তাদেরকে নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গেল ১৫ জন।

স্বজনরা জানিয়েছেন, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাপ্পী হোসেনের মেয়ে আইমান। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আরেকজনের মোবাইল থেকে নিজেই ফোন করে দাদীকে সে বলে, “আমি পুড়ে গেছি দাদী।”

বাবার সঙ্গে তাসনিম আফরোজা আইমান। সংগৃহীত ছবি

প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পাতায় শুক্রবার বিকাল সোয়া ৪টায় দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৫০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রয়েছে ৪০ জন। এছাড়া ঢাকা সিএমএইচে ৮ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ১ জন এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ১ জন ভর্তি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন জানান, এখানে এখন পর্ন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪২ জন। তাদের মধ্যে ১৩ জন কেবিনে; আইসিইউতে ৬ জন।

তিনি জানান, ১৮ বছর বয়সী সাইমনকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সায়মান শারীরিকভাবে দগ্ধ না হলেও মানসিকভাবে প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মায়ের সঙ্গে মাকিন। সংগৃহীত ছবি

এই দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন মারা গেছেন, যার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

সিএমএইচে ছয়টি লাশ রয়েছে, যেগুলো এতটাই পুড়েছে যে চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় শনাক্ত করে লাশগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোয় প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে একটি কমিটি গঠন করেছে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।

‘আমি পুড়ে গেছি দাদী’

আইমানের ফুফু শিউলি সকাল সন্ধ্যাকে জানিয়েছেন, আইমান ছুটির পর প্রতিদিন দোলনায় বসে থাকত। সেখান থেকে গাড়িচালক তাকে বাসায় নিয়ে যেত। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার দেড় ঘণ্টা পর দাদীকে ফোন করে সেকথা জানায় আইমান।

শিউলি বলেন, “আইমান দাদীর বড় প্রিয় ছিল। ছুটির পর গাড়িচালক নিতে এসে দোলনায় ওর ব্যাগ পায়। আইমান প্রতিদিন দোলনায় থাকতো বসে। ওখান থেকে গাড়িচালক তাকে এসে বাসায় নিয়ে যেত। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আইমান অন্য মোবাইল থেকে নিজেই ফোন করে দাদীকে বলে, আমি পুড়ে গেছি দাদী।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত