সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর আয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাবের মিল পাচ্ছে না দুর্নীতি দমন কমিশন; সেই সঙ্গে তার ১১টি ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি টাকা লেনদেন নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দেহ।
সেই কারণে অনুসন্ধান শেষে সোমবার তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ কমিশনের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে সংস্থার মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খালিদ আওয়ামী লীগের ২০১৯ সালের সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই দলের নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপর বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরুদ্দেশ খালিদের বিরুদ্ধে মামলায় জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন প্রায় পৌনে ৬ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং সাড়ে ১৩ কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থের সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া নিজের নামে ১১টি ব্যাংক হিসাব ও ৫টি কার্ড হিসাবে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
যুব মহিলা লীগের দুই নেত্রী রিমান্ডে
সরকারবিরোধী মিছিল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পারভীন চাঁদ মিশু এবং দপ্তর সম্পাদক সাবরিনা ইতিকে তিন দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞেসাবাদ করার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের আবেদনে সোমবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত এই অনুমতি দেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার এসআই মুহাম্মদ ফারহান ইবনে গফুর আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে নিজ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলেন।
শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বলে শেরে বাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
পারভিন মিশু ও সাবরিনাকে গত ৬ এপ্রিল বিকালে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৪ এপ্রিল সকাল ৭ টায় যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি ইশরাত জাহান নাসরিনের নেতৃত্বে তার সংগঠনের ও ছাত্রলীগের অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ জন শেরে বাংলা নগর এলাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সামনে মিছিল করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে তারা পালিয়ে যায়।
এজাহারে বলা হয়, “আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের পদত্যাগের দাবি করে স্বাধীন দেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে।



