ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে; ব্যাংকগুলো যতো ঋণ বিতরণ করছে, তার এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ মোট ঋণের তিন ভাগের এক ভাগই এখন খেলাপি।
বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি, বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংকগুলো মোট ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।
হিসাব বলছে, মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি হয়ে গেছে। অর্থাৎ মোট ঋণের তিন ভাগের এক ভাগই খেলাপি হয়ে গোটা ব্যাংক খাতকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।
তিন মাস আগে জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা; যা ছিল মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। ছয় মাস আগে মার্চ শেষে ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, যা ছিল মোট ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
নয় মাস আগে অর্থাৎ গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের অঙ্ক ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ।
আর এক বছর আগে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। ছয় মাসে বেড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। নয় মাসে বেড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। আর এক বছরে বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।
আদায় ছাড়া এখন আর কোনও ঋণ নিয়মিত দেখাতে পারছে না ব্যাংকগুলো। আবার খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারণেই খেলাপি ঋণ প্রায় সড়ে ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিতরণ করা ব্যাংক ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ঋণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
আবার দেশের অর্থনীতিতে বর্তমান মন্দাবস্থার কারণেও বহু ব্যবসায়ীর ঋণ খারাপ হয়ে পড়ছে। এছাড়া নতুন নীতিমালার কারণেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ভালো-খারাপ প্রায় সব ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিগত সরকারের সময় নীতি সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করার সুযোগ দিয়ে আসছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় ঋণগ্রহীতারা ঋণসীমা বাড়িয়ে কিংবা আরেক নামে ঋণ সৃষ্টি করে দায় সমন্বয় দেখাত। সরকার পতনের পর এ ধরনের সুযোগ বন্ধ হয়েছে।

আগে মেয়াদি ঋণ অনাদায়ী থাকার ছয় মাস পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ধরা হতো। তবে গত মার্চ থেকে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ পার হওয়ার পরদিন থেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ ধরা হচ্ছে।
এছাড়া অনেক খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। আবার অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা জেলে বা পলাতক। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ আছে, লোকসানে পড়েছে অনেকে।
সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর প্রত্যাশিতভাবে ঋণ আদায় হচ্ছে না। এসব কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে বলে জানান ব্যাংকাররা।
পাহাড়সম এই খেলাপি ঋণের বিষয়ে বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ একেবারে উদ্বেগজনক পর্যায়ে উঠে গেছে। আগে লুকিয়ে-ছাপিয়ে রাখা হতো—এরকম ঋণ এখন খেলাপি দেখানো হচ্ছে। আবার ঋণ শ্রেণিকরণের নতুন নীতিমালার আলোকে খেলাপি দেখানো হচ্ছে। এসব কারণে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে।
“বিপুল অঙ্কের ঋণ ফেরত না আসায় তারল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কিছু ব্যাংকের মুনাফা কমছে। অনেক ব্যাংক লোকসানে চলে যাচ্ছে।”
“সব মিলিয়ে ব্যাংকিং খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই খেলাপি ঋণের ভারে,” বলেন মাহবুবুর রহমান।
২০০৯ সালে ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে।
অর্থনীতিবিদরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে, যার একটা বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “খেলাপি ঋণের কোনও তথ্য আমরা লুকিয়ে রাখব না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এটা আদায় জোরদারের মাধ্যমে কমানো হবে। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা হয়েছে। যে কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।”
নতুন বিতরণ করা ঋণ যেন খেলাপি না হয় সে জন্য বিভিন্ন আইনি কঠোরতা আনার কথাও বলেছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেওয়া হয়েছিল একের পর এক নীতি।
সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ও সমালোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলো ঋণের প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে।
একইভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেশ বেড়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, এস আলমসহ আরও কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। এতেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকার পতনের আগেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্ত মানতে গিয়ে গত বছরের মার্চ থেকে কৌশলে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ কমে এসেছে।
আবার তদারকি শিথিলতার কারণে এতদিন জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ আর ফেরত আসছে না। সরকার পতনের পর এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরনার ব্যবসায়ীদের অনেকেই পালিয়েছেন। এতে করে খেলাপি ঋণ আগামীতে আরও বাড়তে পারে বলে ব্যাংকারদের আশঙ্কা।
যেভাবে বেড়েছে খেলাপি ঋণ
কোভিড মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে কোনও ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপিমুক্ত ছিলেন গ্রাহকেরা। ২০২২ সালে এসব নীতি ছাড় তুলে দেওয়ার পর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের জুনে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে আবার ছাড় দেয়। ওই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী জুন মাসের মধ্যে ঋণের কিস্তির অর্ধেক টাকা জমা দিলেই একজন গ্রাহককে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব ঋণ গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তারা অর্ধেক টাকা জমা দিয়েই নিয়মিত গ্রাহক হিসেবে থাকার সুযোগ পান। এই সুবিধা দেওয়া হয় শুধু মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে। ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় অর্ধেকেই মেয়াদি ঋণ।
এত সুবিধা দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ কেবল বাড়ছেই; বরং বারবার ছাড় দেওয়ার কারণে ভালো গ্রাহকেরাও ঋণ পরিশোধে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। তাদের মতে, এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ছে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে।
গত বছর জাতীয় সংসদে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়। এর ফলে খেলাপিরাও ঋণ নেওয়ার সুযোগ পায়। আগে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কোনও প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পাওয়ার সুযোগ ছিল না। নতুন এই আইনের কারণেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
খেলাপি ঋণ নিয়ে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি বরাবরই বলে আসছেন, বাংলাদেশে ব্যাংক খেলাপি ঋণের যে তথ্য দেয়, সেটা আসলে খেলাপি ঋণের আসল তথ্য নয়। প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও বেশি।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি মইনুল সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আজ ব্যাংকিং খাতের যে দুরবস্থা, তার জন্য খেলাপি ঋণ দায়ী; বড় বড় ঋণখেলাপিরা দায়ী। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যাংকিং খাতে কখনই সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না।”
খেলাপি ঋণ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ চেয়ে তিনি বলেন, “যত দিন ঋণখেলাপিদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আলাদাভাবে বিচারের ব্যবস্থা করা যাবে না, তত দিন খেলাপি ঋণও কমবে না।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল বলেন, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি মো. সাহাবুদ্দীন আহমদ ও মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঋণখেলাপিদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেছিলেন।
“কিন্তু কোনও সরকারই এ উদ্যোগ নেয়নি। খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঘোড়াকে থামাতে হলে ঋণখেলাপিদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি তাদের জেলের ভাত খাওয়াতে হবে। তাহলে হয়ত এ অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে।”
ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি
ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
গত আগস্টে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪–এর তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ।
২০২৩ সাল শেষে এমন ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এক বছরে বেড়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা ৫২ শতাংশ।
দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফশিল করা অনাদায়ী ঋণ রয়েছে তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। নিয়মিত খেলাপি হিসাবে দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করা (রাইট অফ) অনাদায়ী ঋণস্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
দুর্দশাগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ হলো সেই ধরনের ঋণ যা ফেরত না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা যার পরিশোধে ঋণগ্রহীতার অক্ষমতা রয়েছে। এটি এমন এক আর্থিক ঝুঁকি যা ঋণদাতা এবং ঋণগ্রহীতা উভয়ের জন্যই সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঋণগ্রহীতা সময়মতো সুদ বা আসল পরিশোধ করতে না পারলে ঋণদাতা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ভারে সংকটে পড়া পাঁচ বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করছে সরকার। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে এখন নতুন একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ব্যাংক ৫টির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত হওয়া এই ৫ ব্যাংকের নাম হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক।



