ফুটবল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। গত ৯ নভেম্বর ক্রিকেট কনফারেন্সে ফুটবলারদের ব্যবহার খারাপসহ মাঠ দখলের মতো বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এরপর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন আসিফ।
আপত্তি জানিয়ে বিসিবির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল বাফুফে। চার দিন পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো সেই চিঠির উত্তর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ফুটবল ও ফুটবলাদের নিয়ে আসিফ আকবরের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সেই চিঠিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম চিঠিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্স ২০২৫ অনুষ্ঠানে যে তথাকথিত বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেই বক্তব্যটি তিনি প্রদান করেছিলেন জেলা প্রতিনিধিত্বকারী কাউন্সিলর হিসেবে, একজন বোর্ড পরিচালক হিসেবে নয়। আমার জানা মতে, তিনি তাঁর নিজ জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও মাঠ ব্যবহার–সংক্রান্ত কিছু দীর্ঘদিনের হতাশা ও জটিলতা থেকে ব্যক্তিগত ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভবত উক্ত বক্তব্য প্রদান করেছেন।’’

চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে,‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। আপনার অবগতির জন্য আমি সুদৃঢ়ভাবে আরও জানাতে চাই, বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্স ২০২৫–এ প্রদানকৃত বক্তব্যটি ছিল সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি এবং সেটিকে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা সম্ভব হবে না।’’
মন মন্তব্যের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি, ‘‘যদি উক্ত বক্তব্যের কারণে ফুটবল পরিবার বা ভক্তদের মনে কোনো ধরনের আঘাত বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’’
এদিকে ফেইসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছেন আসিফ আকবরও। তিনি বলেন, ‘‘এই স্লেজিংটা করতে গিয়ে আমি ফুটবল দর্শকদের কষ্ট দিয়েছি। এটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছি। এজন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করেছি। যারা ফুটবল ভালোবাসেন এবং ফুটবল ভালোবেসে আমাকে বকাবকি করেছেন, রাগ করেছেন, এতে আমি কিছু মনে করিনি। মনে করার কোনো কারণও নেই। আমি চাচ্ছিলাম এটা নিয়ে একটা আলোচনা হোক।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘শেষ পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে এবং দুই বোর্ডের প্রধান ক্লোজ হয়েছেন। গত ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে জাতীয় স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্যপুর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা একটি সমাধানে এসেছি যে, আমরা কীভাবে ফুটবল–ক্রিকেট একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারি।’’



