Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি, অর্থনীতিতে উদ্বেগ

SS-Export-import-BOP-1-080724
[publishpress_authors_box]

অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট-বিওপি) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (তিন মাস, জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

অথচ প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে এই সূচকে ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল; এক মাসে অর্থাৎ অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উদ্বৃত্ত ছিল ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যালান্স অব পেমেন্টে ৬ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল; আর অর্থ বছর (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন) শেষ হয় ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে।

গত ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের সাড়ে চার মাস হতে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যালান্স অব পেমেন্টের তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাতে দেখা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে উল্লম্ফন ও রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে চলতি অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় কমায় তিন মাসের হিসাবে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই সূচকে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থ বছর শুরু হওয়ার পর ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিচলিত অর্থনীতির গবেষক বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেছেন, “শুরুটা ভালোই হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, অর্থনীতিতে যে সঙ্কট ছিল, তা কেটে যাবে। কিন্তু তিন মাসের তথ্য দেখে সে আশা আর করা যাচ্ছে না। রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলেও রপ্তানি আয় কমছে; আগস্ট-অক্টোবর টানা তিন মাস কমেছে। আমদানিও কম। দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগই মন্দা। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ভালো মনে হচ্ছে না।”

গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রায় পুরোটা সময় এই সূচকে ঘাটতি ছিল। অর্থ বছরের শেষ মাস জুনের শেষ দিকে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থার প্রায় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলার বাজেট সহায়তার ঋণ এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল ওই আর্থিক বছর।

সেই সঙ্গে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) এবং আর্থিক হিসাবেও (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) বড় উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ।

ডলার সঙ্কটের কারণে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার; তার সুফলও মিলেছিল। আমদানি ব্যয় বেশ কমে এসেছিল। তাতে বাণিজ্য ঘাটতি বেশ খানিকটা কমে শেষ হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থ বছর। তবে ব্যালান্স অব পেমেন্টে বড় ঘাটতি ছিল।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও সেই একই পথ অনুসরণ করে চলেছে। এর মধ্যে রপ্তানি আয়ে বেশ ভালো গতি এসেছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতিতে নিম্মমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার মোটা অঙ্কের বাজেট সহায়তার ঋণ এবং ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও সন্তোষজনক অবস্থানে এসেছে।

এসবের ফলে বাজারে ডলার সরবরাহ বেড়েছে; বেশ কিছুদিন ডলারের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এমনকি টাকা-ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরও বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।

মাঝে কিছুদিন ডলারের দর কমলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে নিলামের মাধ্যমে বেশি দরে ডলার কেনায় বাজার আবার স্থিতিশীল হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে অবশ্য ডলারের দর খানিকটা বেড়েছিল। এখন আবার স্বাভাবিক হয়েছে।

সব মিলিয়ে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সূচক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের মধ্য দিয়ে গত অর্থ বছর শেষ হয়েছিল; নতুন অর্থ বছরও শুরু হয়েছিল উদ্বৃত্ত নিয়ে।

৬৫১ কোটি (৬.৫১ বিলিয়ন) ডলারের বড় ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থ বছর। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ঘাটতি ছিল এক হাজার ১৬৩ কোটি (১১.৬৩ বিলিয়ন) ডলার।

আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ১.বিলিয়ন ডলার

ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি দেখা দিলেও আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

২০২৩-২৪ অর্থ বছর শেষে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ঘাটতি নিয়ে শুরু হয় ২০২৪-২৫ অর্থ বছর; গত অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১৭ কোটি ১০ লাখ (১.১৭ বিলিয়ন) ডলার।

অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই সূচকে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। নয় মাস শেষে (জুলাই-মার্চ) সেই উদ্বৃত্ত বেড়ে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১৩০ কোটি ৭০ লাখ (১.৩১ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়।

দশ মাস শেষে (জুলাই-এপ্রিল) তা আরও বেড়ে ১৪৯ কোটি (১.৪৯ বিলিয়ন) ওঠে। তবে ১১ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে তা কমে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে।

বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ ও এডিবির বাজেট সহায়তার ঋণে শেষ পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে ৩২০ কোটি (৩.২০ বিলিয়ন) ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছর শেষ হয়েছিল।

তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছর ঘাটতি দিয়ে শুরু হয়। প্রথম মাস জুলাইয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতি কমে ৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।

তিন মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আর্থিক হিসাবে ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ (১.৬ বিলিয়ন) উদ্বৃত্ত হয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে ১০০ কোটি ১০ লাখ (১ বিলিয়ন) ডলারের ঘাটতি ছিল।

সামগ্রিক লেনদেনেও উদ্বৃত্ত

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছর শেষ হয়। ৪৩০ কোটি (৪.৩০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থ বছর শেষ হয়েছিল।

তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছর ঘাটতি দিয়ে শুরু হয়। প্রথম মাস জুলাইয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে দুই মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে সেই ঘাটতি কমে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নামে।

তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। অথচ গত অর্থ বছরের এই তিন মাসে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৪৮ কোটি ৬০ লাখ (১.৪৮ বিলিয়ন) ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি ২৩.১৩% বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে দুই হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছিল। আগের অর্থ বছরে (২০২৩-২৪) এই ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার।

২০২২-২৩ অর্থ বছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৯৫ কোটি ৮০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার।

তিন মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতি বেড়ে ৫৭১ কোটি ২০ লাখ (৫.৭১ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

গত অর্থ বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৪৬৩ কোটি ৯০ লাখ (৪.৬৪ বিলিয়ন) ডলার।

এ হিসাবে এই আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাণিজ্য ঘাটতি ২৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১ হাজর ৬৮০ কোটি (১৬.৮০ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থ বছরে একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

এর বিপরীতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ১ হাজার ৫৫ কোটি ৩০ লাখ (১০.৫৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে।

এ হিসাবেই বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

রেমিটেন্স বেড়েছে ১৬ শতাংশ

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এ মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থ বছরের (২০২২-২৩) চেয়ে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ইতিহাস গড়েছে রেমিটেন্স। এই আর্থিক বছরে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৭৫ লাখ (৩০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থ বছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।

প্রতি মাসের গড় হিসাবে এসেছিল ২৫১ কোটি ৯৮ লাখ (২.৫২ বিলিয়ন) ডলার।

সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরেও অব্যাহত রয়েছে। এই আর্থিক বছরের প্রথম তিন (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ৭৫৮ কোটি ৫০ লাখ (৭.৫৮ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

এই অঙ্ক গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

২০২৪ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ৬৫৪ কোটি ২০ লাখ (৬.৫৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

ইতোমধ্যে অক্টোবর মাসের রেমিটেন্সের তথ্যও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, এই মাসে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ (২.৫৬ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বেশি।

২০২৪ সালের অক্টোবরে এসেছিল ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ (২.৩৯ বিলিয়ন) ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থ বছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১ হাজার ১৪ কোটি ৯১ লাখ (১০.১৫ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই

রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে রিজার্ভ।

গত রবিবার ৯ নভেম্বর আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১৬১ কোটি (১.৬১ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; এই দেনা মেটানোর পরও বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। গ্রস বা মোট হিসাবে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩২ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

দুই মাস আগে ৭ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ থেকে আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের ১৫০ কোটি (১.৫০ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩০ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার।

ওই সময় আকুর দেনা শোধের আগে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

গত দুই মাসে সেই রিজার্ভ বেশ খানিকটা বাড়ে। সে কারণে জুলাই-আগস্টের মেয়াদের চেয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে আকুর বেশি বিল শোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

এক বছর আগে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।

তবে এক বছর পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণ এবং নিলামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

গত ৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস বা মোট রিজার্ভ নেমেছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে।

৮ মে আকুর মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১৮৮ কোটি ৩০ লাখ (১.৮৮ বিলিয়ন) ডলার বিল পরিশোধ করার পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ২৫ বিলিয়ন ডলারে।

এর আগে গত মার্চে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির জন্য আকুর আমদানির বিল বাবদ ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং জানুয়ারিতে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়।

সেই দুই বারই আকুর বিল শোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।

আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।

ব্যাংকগুলো আমদানির খরচ নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়, যা রিজার্ভে যোগ হয়। তবে ওই দায় দুই মাস পরপর রিজার্ভ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।

সবশেষ গত আগস্ট মাসের আমদানির যে তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তাতে দেখা যায় যে ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

সে হিসাবেই বর্তমানের ২৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found