একদিন আগে কর্মস্থলের উদ্দেশে ঢাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার।
তার খোঁজ পেতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পরিবার। সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই তার খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। পুলিশ বলছে, তারা বিষয়টি দেখছে।
৭১ বছর বয়সী বিভুরঞ্জন সরকার দৈনিক মাতৃভূমি, সাপ্তাহিক চলতিপত্রের সম্পাদক ছিলেন। তিনি এখন দৈনিক আজকের পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে আজকের পত্রিকার বনশ্রীর অফিসে যেতেই সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন বলে তার পরিবার জনিয়েছে। তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি ঘরে রেখেই বের হন।
সারাদিনেও খোঁজ না পাওয়ার পর তার ভাই কলামনিস্ট চিররঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুকে লেখেন, “আমার দাদা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় অন্যান্য দিনের মতো অফিস (আজকের পত্রিকা) যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে অফিসে যায়নি। পরিচিত পরিমণ্ডলের কোথাও যায়নি।
“আজ কেউ তাকে দেখেনি। রাত ১টা পর্যন্ত সে বাসায় ফেরেনি। হাসপাতাল-পার্ক কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সে আজ মোবাইলও বাসায় রেখে গেছে। রাতে রমনা থানায় জিডি করা হয়েছে। তার জন্য আমরা পরিবারের সবাই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে আছি।”
নিখোঁজের ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিভুরঞ্জনের ছেলে ঋত সরকার।
তাতে তিনি বলেছেন, আজকের পত্রিকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে অফিসেও তিনি যাননি।
“আমরা বাবার অফিসে (বনশ্রী) খোঁজ নিই এবং জানতে পারি যে তিনি অফিসে উপস্থিত হননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সম্ভাব্য সকল স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু কোথাও পাওনা না গেলে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেছি।”
আজকের পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সাংবাদিককে জানিয়েছে, বিভুরঞ্জন সরকার ১৬ আগস্ট থেকে ৭ দিনের ছুটিতে রয়েছেন।
তবে এবিষয়ে তার পরিবার কিছু জানে না।
চিররঞ্জন সরকার শুক্রবার দুপুরে সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা পরিচিতদের সাথে কথা বলছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তবে দুপুর পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ পাইনি আমরা।”
রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, বিভুরঞ্জন সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করার পরপরই তারা খোঁজ-খবর শুরু করেছেন।
“সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজব আমরা। কোনও আপডেট পাওয়া গেলে আমরা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেব।”
১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া বিভুরঞ্জন সরকার পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।
দৈনিক আজাদের মফস্বল সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সংবাদপত্রে কাজ করেন, এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সাপ্তাহিক যায়যায়দিন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যায়যায়দিনে ‘তারিখ ইব্রাহিম’ ছদ্মনামে লেখা তার রাজনৈতিক নিবন্ধ পাঠকপ্রিয় ছিল।
সাপ্তাহিক মৃদুভাষণের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার সম্পদনায় বের হয় সাপ্তাহিক চলতিপত্র। এরপর দৈনিক মাতৃভূমির সম্পাদক হন তিনি। সম্পাদনার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে যাচ্ছেন তিনি।


