দুই বছর আগেও ফুটবল এতটুকু টানতো না। টেলিভিশনে বা স্টেডিয়ামে গিয়ে কখনও ফুটবল ম্যাচও দেখতেন না। ঝানাইম ঝুসোপভার যত আগ্রহ ছিল হিসাব বিজ্ঞানে। স্নাতক করেছেন হিসাব বিজ্ঞানের ওপর। কিরগিজস্তানের কর্পোরেট অফিসে ভালো একটা চাকরিও পেয়েছিলেন। কিন্তু সব ছেড়ে দুই বছর হলো মুরাস ইউনাইটেড এফসি ক্লাবের মিডিয়া অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে অফে বাংলাদেশের ক্লাব আবাহনীর মুখোমুখি হবে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেড। ঢাকা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটায়। এই ম্যাচের আগে সোমবার বাফুফে ভবনের সম্মেলন কক্ষে বেশ ব্যস্ত দেখা গেল ঝুসোপভাকে।
এক হাতে একটা ডিএসএলআর। অন্য হাতে স্মার্ট ফোন। দুটো দিয়েই কখনও ফুটবলার ও কোচদের ছবি তুলছেন। কখনও ভিডিও করছেন। কথাবার্তায় দারুণ স্মার্ট ঝুসোপভা। কথা বলেন হেসে হেসে।

ঢাকা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে যখন কথা হচ্ছিল ঝুসোপভার সঙ্গে বেশ সাবলীল ভাবেই বললেন নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথা। কিরগিজস্তানের অন্যতম ধনী ক্লাব মুরাস ইউনাইটেড। কোচ, ফুটবলার, ফিজিও, ভিডিও অ্যানালিস্ট, ট্রেনারসহ সব কোচিং স্টাফ মিলিয়ে এই ক্লাবের ৬৫ সদস্যের বিশাল একটা বহর ঢাকায় এসেছে। একটা চার্টার্ড বিমান ভর্তি করে এসেছে মুরাস ইউনাইটেড ক্লাবের সবাই। এত বড় বহরের মধ্যে মাত্র একজন নারী সদস্য। বিষয়টা কেমন লাগে আপনার? প্রশ্নটা করতেই ঝুসোপভা বললেন, “এতজন পুরুষের মধ্যে একজন নারী আমি। অবশ্যই একটু ইতস্তত বোধ করি। কিন্তু তারপরও আমার সব সতীর্থ খুব অমায়িক। আমাকে সব বিষয়ে সহযোগিতা করেন। তাই কাজ করতে বেশ ভালোই লাগে।”
কত দিন হলো দলের সঙ্গে রয়েছেন? এই প্রশ্নে তিনি জানান, “এই ক্লাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই এর মিডিয়া অফিসার হিসেবে কাজ করছি। যদিও এখানে আসার আগ পর্যন্ত ফুটবল কখনোই ভালো লাগতো না। এর আগে আমি হিসাব বিভাগে চাকরি করতাম। ”

কিন্তু গত কয়েক বছর ফুটবলের সঙ্গে থাকতে থাকতেই প্রেমে পড়ে গেছেন ফুটবলের। এরই মধ্যে বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশান লামিন ইয়ামালের প্রেমেও পড়ে গেছেন, “আমি আসলে বার্সেলোনার সমর্থক। আর লামিন ইয়ামালকে ভীষণ ভালো লাগে। ওর ম্যাচ কখনোই মিস করি না। বলতে পারেন আমি ওর প্রেমে পড়ে গেছি (হাসি)।”
ইয়ামালের বাইরে যদি বেছে নিতে হয় তাহলে মেসি নাকি রোনালদো, কাকে বেছে নিবেন? হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, “অবশ্যই রোনালদো।”
কেমন লাগছে ঢাকা শহর, “বেশ ভালো লাগছে। এখানকার সবাই খুব অতিথিপরায়ণ। এটাই বেশি ভালো লেগেছে।”
আবাহনীর বিপক্ষে এই ম্যাচে মুরাস ইউনাইটেড ফেবারিট বলে জানালেন এই তরুণী, “এই ম্যাচে আমরাই জিতব। আমাদের ছেলেরা ভীষণ আত্মবিশ্বাসী।”

ঢাকা স্টেডিয়ামের প্রধান গেটের বাইরে সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন ঝুসোপভা। ততক্ষণে অনুশীলনের জন্য ফুটবলাররা মাঠে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সতীর্থরাও ডাকতে শুরু করে দিয়েছেন ঝুসোপভাকে। আলাপচারিতা ছেড়ে হাসতে হাসতে ঝুসোপভা ঢুকে গেলেন ড্রেসিংরুমে।



