ঘোষণা করেছিলেন ২৫ শতাংশ শুল্কের; কিন্তু রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় তা ৫০ শতাংশে চড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে স্বভাবতই চটেছেন নরেন্দ্র মোদী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর গলায় গলায় ভাব শুল্ক নিয়ে এখন বিরোধের দিকেই গড়াচ্ছে। আর তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের পণ্যে বাড়তি শুল্ক।
ট্রাম্প এর আগের বার যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন মোদীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিশ্বজুড়েই ছিল আলোচিত। এমনকি ট্রাম্পের এক নির্বাচনী সমাবেশেও কূটনৈতিক শিষ্টাচার ছুড়ে ফেলে হাজির হয়েছিলেন মোদী।
এই বছরের শুরুতে ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যে রাষ্ট্রনেতাদের প্রথম আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তার মধ্যে ছিলেন মোদী। গত ফেব্রুয়ারির সেই বৈঠকেও ছিল পপুলিস্ট দুই নেতার সম্পর্কের উষ্ণতার পরশ।
কিন্তু ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানে ট্রাম্প শুল্ক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে শীতলতার দিকে গড়াচ্ছে।
এক সপ্তাহ আগে যখন ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পাল্টা শুল্ক হার নির্ধারণ করেছিলেন, তখন ভারতের পণ্যের ওপর সেই হার ছিল ২৫ শতাংশ।
তবে ভারত রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনা থেকে বিরত না হওয়ায় সোমবার ট্রাম্প সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।

সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করে মঙ্গলবার ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক হার ৫০ শতাংশ করেন তিনি। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় একে ‘অন্যায্য’ বলে নয়া দিল্লি।
তার একদিন পরই মোদী কড়া বার্তা দিয়ে বললেন, ভারত তার কৃষক এবং জেলেদের স্বার্থের সঙ্গে কখনও আপস করবে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যদিও তিনি জানেন যে তাকে এর মূল্য দিতে হবে, কৃষকদের জন্য তা করতেও তিনি প্রস্তুত।
দিল্লিতে এক সম্মেলনে মোদী বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার। ভারত তার কৃষক, খামারি এবং জেলেদের স্বার্থের সঙ্গে কখনও আপস করবে না। এবং আমি জানি যে এর জন্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে একটি বিশাল মূল্য দিতে হবে, কিন্তু আমি প্রস্তুত। দেশের কৃষক, জেলে ও খামারিদের স্বার্থে ভারত প্রস্তুত।”
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য রপ্তানি করে ভারত। ফলে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের প্রভাব এই খাতের ওপর পড়বে, তা ধরেই নেওয়া যায়।
ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, রাশিয়ার তেল আমদানির জন্য ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অবাস্তব।
মন্ত্রণালযয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আমাদের অবস্থান ইতোমধ্যেই পরিষ্কার করে দিয়েছি যে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সামগ্রিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই পদক্ষেপ েনওয়া হয়।”
মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ থামানোয় ট্রাম্পের কৃতিত্ব দাবি করাটাকে নয়া দিল্লিকে খুশি মনে নিতে পারেনি। তার সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে শুল্ক নিয়ে বিরোধ।
দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) রাশিয়া এবং মধ্য এশীয় অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক অমিতাভ সিং বলছেন, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মোদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকে থাকবে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি, সিএনএন



