বিমান বিধ্বস্তের পর অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের আরও দুই শিক্ষার্থী মারা গেছে। তাদেরকে নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ হলো।
ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা মাহতাব রহমান ভুইয়াকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এর কিছুক্ষণ পর মাহিয়ার মৃত্যু হয়।
মাইলস্টোন কলেজের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ত মাহতাব (১৪)। তার বাবার নাম মিনহাজুর রহমান ভুইয়া। তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে।
সোমবার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে গেলে মাহতাবও দগ্ধ হয়।
দেহের ৭০ শতাংশে আগুনের ক্ষত নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি ছিল সে। অবস্থার অবনতি ঘটার পর বুধবার তাতে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়েছিল।

১৫ বছর বয়সী মাহিয়াও দেহের ৫০ শতাংশজুড়ে আগুনের ক্ষত নিয়ে আইসিইউতে ছিল
মাহাতাব ও মাহিয়াকে নিয়ে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ৩১ জনে পৌঁছল।
প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পাতায় বৃহস্পতিবার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে এখন ৫৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর মধ্যে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রয়েছে ৪৩ জন। এছাড়া ঢাকা সিএমএইচে ১১ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ১ জন ভর্তি রয়েছেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটে থাকা ৪৩ জনের মধ্যে আটজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে বুধবার জানিয়েছিলেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারমধ্যে মাহতাব ও মাহিয়া মারা গেল।
এই দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন মারা গেছেন, যার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
সিএমএইচে ছয়টি লাশ রয়েছে, যেগুলো এতটাই পুড়েছে যে চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় শনাক্ত করে লাশগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোয় প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে একটি কমিটি গঠন করেছে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।



