সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির যে চিত্র সংবাদ মাধ্যম তুলে ধরছে, তাতে ভিন্নমত জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করছে, গুরুতর অপরাধ আসলে বাড়েনি।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান দেখিয়ে সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফেইসবুক পাতায় এক পোস্টে এই দাবি করা হয়।
গত বুধবার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে লালচাঁদ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশের ওপর উল্লাসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার তা নিয়ে নিন্দার ঝড় বইছে।
এর আগে কুমিল্লার মুরাদনগরে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কুমিল্লায় এক মসজিদের ইমামকে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার জন যুবদলের এক নেতা। এর বাইরে ‘মব’ তৈরি করে আক্রমণের ঘটনাও ঘটছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলেও সমালোচনা আসছে বিশ্লেষকদের।
তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে এই বছর অপরাধ ব্যাপক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের মধ্যে ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলেছে।
“২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যান অপরাধ বৃদ্ধির তথ্যকে সমর্থন করে না। বরং তাতে দেখা যাচ্ছে যে গত ১০ মাসে গুরুতর অপরাধ স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে।”
“প্রকৃতপক্ষে, কিছু গুরুতর অপরাধ হয় কমেছে কিংবা স্থিতিশীল রয়েছে। অল্প কিছু ধরনের অপরাধ বেড়েছে,” বলা হয় সেই পোস্টে।
নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরও আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
পোস্টে িদুটি সারণীতে গত পাঁচ বছর এবং গত ১০ মাসের অপরাধ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান জুড়ে দেওয়া হয়।
তার একটি ছকে বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে বিভিন্ন অপরাধে মোট মামলা হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি, তার মধ্য খুনের মামলা ছিল ৩৫৩৯।
২০২১ সালে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫১০টি মামলার মধ্যে খুনের মামলা ছিল ৩ হাজার ২১৪টি। ২০২২ সালে ২ লাখ ৪ হাজার ২৩০টি মামলার মধ্যে খুনের মামলা ছিল ৩ হাজার ১২৬টি। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৬টি মামলার মধ্যে খুনের মামলা ছিল ৩ হাজার ২৩টি। ২০২৪ সালে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৩টি মামলার মধ্যে খুনের মামলা ছিল ৪ হাজার ১১১৪টি।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানু-জুন) ৯১ হাজার ৩৩৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে খুনের মামলা ১ হাজার ৯৩৩টি এবং ধর্ষণের মামলা ২ হাজার ৭৪৪টি।
আরেকটি ছকে দেখানো হয় যে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই বছরের জুনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে এপ্রিল মাসে, ১৬ হাজার ৩১২টি। গত বছরের শেষার্ধ্বে মাসে মামলার সংখ্যা ১৩ হাজারের নিচেই ছিল।
গত জানুয়ারিতে মামলার সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়ায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ১৩ হাজারের ঘরে থাকলেও পরের তিনটি মাসেই ১৬ হাজারের বেশি মামলা হয়। জুনে মামলার সংখ্যা খানিকটা কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ১৬৭টি।



