জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যিনি গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাগরিকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞাও তারই অংশ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, আলবানিজও এই চেষ্টায় সরাসরি জড়িত। তিনি জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন।
ইতালির নাগরিক আলবানিজ এই নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ করতে পারবেন না। ওই দেশে তার কোনও সম্পদ থাকলে তাও জব্দ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তখনই এলো, যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া আলবানিজ জানাননি। তবে তিনি এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “আমি আগের চেয়েও বেশি দৃঢ়তার সঙ্গে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, যেমনটি আমি সবসময় করেছি।”
বিশ্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির গুরুত্ব তুলে ধরে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি নিজের সমর্থন অটুট থাকবে বলেও জানিয়েছেন।
আল জাজিরা আলবানিজকে উদ্ধৃত করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞাকে ভয় দেখানোর ‘মাফিয়া স্টাইল’ হিসাবে দেখছেন এই আইনজীবী।
ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে আইসিসির চারজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত বছর এই আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

আলবানিজের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ানো, সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের অভিযানে গাজায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যুর প্রতিবাদ যারা করছেন, তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলবািনজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান এবং জাতিসংঘের সাবেক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
আলবানিজ ইসরায়েলের এই অভিযানের সমালোচনার পাশাপাশি বলে আসছেন, পশ্চিমা সরকারগুলো অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট কিছু করছে না।
তবে ২০১৪ সালে আলবানিজের একটি মন্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ে, যখন তিনি বলেছিলেন যে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত ইহুদি লবি দ্বারা প্রভাবিত।
তার ওই মন্তব্য ইহুদি বিদ্বেষী বলে সমালোচনা উঠলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এই মাসের শুরুতে আলবানিজ ডজনখানেক বহুজাতিক কোম্পানিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন এই বলে যে তারা গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনারও সমালোচনা করছেন আলবানিজ। তার মতে, এটা বেআইনি, অনৈতিক এবং সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন।
রুবিও বলেছেন, আলবানিজ বেশ কয়েকটি মার্কিন কোম্পানিকে ‘হুমকি’ দিয়ে চিঠি লিখে ওয়াশিংটনের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।
“আমরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের এই অভিযানগুলি সহ্য করব না, যা আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে।”
তথ্যসূত্র : বিবিসি



