Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

‘হায়দার-হায়দার’ রবের মধ্যে দেখা দিলেন খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের পর শনিবার প্রথম প্রকাশ্যে আসেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের পর শনিবার প্রথম প্রকাশ্যে আসেন।
[publishpress_authors_box]

দেখা দিলেন খামেনি, তা ঘিরে রব উঠল ‘হায়দার-হায়দার’, হাত নেড়ে জনতাকে শুভেচ্ছা জানালেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইমাম।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে শনিবার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির এই ভিডিও প্রচার হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে ২১ দিন পর তার দেখা মিলল।

গত ১৩ জুন ইসরায়েল বিমান হামলা শুরুর পরই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ধারণা করা হয়, তিনি সুরক্ষিত কোনও বাংকারে লুকিয়ে ছিলেন।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। ১২ দিন পর যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। তারপর খামেনির একটি ভিডিও ভাষণ এলেও তার দেখা মিলছিল না।

শনিবার টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ধ্যায় একটি মসজিদে নামাজ আদায়ে যান খামেনি। সেখানে শতাধিক মুসল্লি তাকে দেখেই দাঁড়িয়ে যান। তারা স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের মধ্যে নারীরাও ছিলেন। ৮৫ বছর বয়সী খামেনি হাত নাড়তে নাড়তে তার জন্য রাখা চেয়ারে বসেন।

টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, আশুরা উপলক্ষে মধ্য তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন খামেনি।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পালনীয় দিন ১০ মহররম আশুরা ঘটা করে পালন করে থাকে শিয়া মুসলমানরা। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে বর্তমান ইরাকের কারাবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনী হত্যা করেছিল ইমাম হোসাইনকে। তিনি ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলির ছেলে। আলিকে হায়দার উপাধি দিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

আশুরার দিনে শিয়া মুসলমানরা কারাবালা প্রান্তরের সেই বেদনাবিধূর পরিবেশ ফিরিয়ে আনে নানা আঙ্গিকে। ইরানে শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানে এই দিনটি পালনের ঘটাও বেশি।

সেই আশুরার দিন ‘হায়দার, হায়দার’ ধ্বনির মধ্যে জনসমক্ষে আসা খামেনিকে কিছু বলতে দেখা না গেলেও তার মুখভঙ্গী ছিল কঠোর এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তেহরানে এদিন আশুরার শোকের মাতম ছিল আগের যে কোনও বারের চেয়ে ভিন্ন। তাদের স্মরণ দেখে মনে হচ্ছিল, ইমাম হোসাইন যে একদিন আগেই মারা গেছেন।

দেড় হাজার বছর আগের সেই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নিতে চাইছিলেন তারা। অনেক ইরানির মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি এখন তীব্র। তাদের বিশ্বাস, তেহরানের কূটনৈতিক কৌশল মার খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতারণার কাছে।

ইমাম হোসাইনকে তৎকালীন কুফার শাসনকর্তা যেভাবে প্রতারিত করে ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, এবারও তেমনটাই ঘটেছে বলে তারা মনে করেন।

১২ দিনের যুদ্ধে যে তেহরান খানিক পরপরই ইসরায়েলি যুদ্ধ বিমানের হামলায় কেঁপে উঠত, সেই তেহরানে শনিবার গগণবিদারি স্লোগান ছিল- ইসরায়েল নিপাত যাক।

এক ইরানি বলেন, “হোসাইন থেকে নেওয়ার শিক্ষা হলো, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি হলেও নিপীড়নের কাছে নতি স্বীকার না করা।”

এক নারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে অবজ্ঞার সুরে বলেন, “কেউ তাকে পছন্দ করে না। তিনি সবসময় অনেক দেশকে আক্রমণ করতে চান।”

তাজিয়া মিছিল যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তার পাশের বিলবোর্ডের ছবিগুলো কারবালার কাহিনীর সঙ্গে এখনকার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে। একদিকে ইমাম হোসাইনের ঘোড়ার যুদ্ধযাত্রা, অন্যদিকে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ছবি।

ইরানিরা প্রতিরোধের কথা বলে গেলেও কূটনীতির দরজা একেবারে বন্ধ করছে না সরকার।

সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ইসরায়েল যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে এবারের চেয়ে কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়বে। আশা করি, ইসরায়েল এমন ভুল করবে না।

ইসরায়েল আশা করেছিল, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন, খামেনিকে উৎখাত করা।

আর এতে নেতানিয়াহু সমর্থন চেয়েছিলেন, ইরানের ভিন্নমতের মানুষদের কাছে, যারা দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।

তবে যুদ্ধ শেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এখনও তার স্থানেই রয়েছেন। অনেক ইরানিই বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের বিভেদ ঘটাতে তে পারেইনি, বরং এক করেছে।

তথ্যসূত্র : আল জাজিরা, স্কাই নিউজ

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found