অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। এর ফলে আগামী ৫ বছর নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিতে পারবেন না তিনি।
মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিএমডিসি।
ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে এন্ডোসকপি করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে মাহতাব স্বপ্নীলের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএমডিসি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মামুন আল মাহতাবের বিরুদ্ধে রোগী রাহিব রেজার চিকিৎসায় আনা অভিযোগের দায় প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্টার থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে রেজিস্ট্রেশন ৫ বছরের জন্য সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এই আইনের ধারা অনুযায়ী এই সময়ে তিনি বাংলাদেশের ভেতরে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে কোনও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা অথবা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞাটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ২২ জুন মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের বিএমডিসির নিবন্ধন ৫ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। মঙ্গলবার তার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো।
মাহতাব স্বপ্নীল সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক। এই বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান তিনি।
বাংলাদেশে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারীদের পেশাগত কাজ পরিচালনার জন্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসক হিসাবে কাজ করতে পারেন না।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ল্যাবএইড হাসপাতালেই একই চিকিৎসক অ্যান্ডোসকপি করার সময় রাহিব রেজা নামের এক রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হলে চার দিন পর তার মৃত্যু হয়। রাহিব রেজার পরিবারেরও অভিযোগ, গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে এবং এর দায় ডা. স্বপ্নীল কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। তবে এই চিকিৎসক তখন চিকিৎসায় কোনও ভুল ছিল না বলে দাবি করেন।
সে সময় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। বিষয়টি নিয়ে রাহিবের পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়। গত বছরের ১১ মার্চ আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। ছয় মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে অধিদপ্তরের কমিটি। যেখানে চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বলে তদন্ত কমিটি।
এর আগে ধানমণ্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে মাহতাব স্বপ্নীলের কাছে এন্ডোসকপি করাতে গিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে মারা যান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আফসার আহমেদ।
এই মৃত্যুর জন্য মাহতাব স্বপ্নীলের গাফিলতিকে দায়ী করে তার বিচার চেয়ে গত বছরের ২৪ মার্চ আফসারের ছোট ভাই খায়রুল বাশার তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন।
ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য মাহতাব স্বপ্নীল এবং ল্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অবহেলাকে দায়ী করেন বাশার। আবেদনে তিনি আরও লেখেন, ডা. স্বপ্নীলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আরও রয়েছে।
এক বছর পর গত ১৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয় বিএমডিসিতে, সেখানে মাহতাব স্বপ্নীলের নিবন্ধন বাতিলের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।



