Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

কলকাতায় আবারও ধর্ষণ ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ

kolkata police
[publishpress_authors_box]

ভারতের আর জি কর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যায় উত্তাল হয়েছিল পুরো পশ্চিমবঙ্গ। তার ১০ মাস পর এবার এক আইন কলেজের শিক্ষার্থী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তা নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হতে চলেছে।

কলকাতার সাউথ কলকাতা ল কলেজ চত্বরের ভেতরে গত ২৫ জুন সন্ধ্যার পর ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন বলে শুক্রবার জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা।

পুলিশ জানায়, কলেজের নিচতলায় ছাত্র সংসদের অফিসের পাশের গার্ডের ঘরে ওই শিক্ষার্থীকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর কসবা পুলিশ স্টেশনে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থী। তারপর তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাদের একজন কলকাতার কসবা এলাকার ওই আইন কলেজেন সাবেক শিক্ষার্থী মনোজিৎ মিশ্র(৩১)। বাকি দুজন কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী জইব আহমেদ (১৯) এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায় (২০)।

তাদের কাছে পাওয়া মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া গেছে, যা তারা ওই নারীকে ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেসব মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।

এই ধর্ষণের আসামিদের নিয়ে আবার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ভারতের দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

মূলত মনোজিৎ মিশ্রকে নিয়ে চলছে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, মনোজিৎ তৃণমূলে জড়িত।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার সঙ্গেও তার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। সেই তালিকায় রয়েছে মমতার ভাগ্নে এবং দলের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মনোজিৎ এক সময় সর্বভারতীয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদে যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে তা তাকে সাজা থেকে বাঁচাতে পারবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এনিয়ে বিজেপি জল ঘোলা করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী শশী পাঞ্জা। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ অপরাজিতা বিল পাস করেছে। এটা এখনও আইনে পরিণত হয়নি। কেন? কারণ বিজেপি তাতে বাধা দিয়েছে। নারীর শরীর আপনার রাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র নয়। সেটার সম্মান করা উচিৎ।”  

মনোজিৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, “২০১৯ সালে সে পদে ছিল। ২০২৫ এ সে কী করবে, আমরা কীভাবে জানব? আমরা তো আর ভাগ্য বলতে পারি না। ২০২২-২৩ সালের কোনও কমিটিতে সে ছিল না। সে এখনও কোনও কমিটিতে নেই। সে কোন দলের সেটা জরুরি নয়। সে ধর্ষক, তাকে সাজা পেতেই হবে।”

২০২৪ সালে আগস্টে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল। এখন একটি কলেজের ভেতরেই শিক্ষার্থী ধর্ষিত হওয়ায় কলকাতায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আর প্রশ্ন উঠছে।

তথ্যসূত্র : দি হিন্দু, এনডিটিভি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found