Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সাবেক সিইসি নূরুল হুদা ৪ দিনের রিমান্ডে

আদালতে সাবেক সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা।
আদালতে সাবেক সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা।
[publishpress_authors_box]

প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নূরুল হুদাকে চার দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেয়।

এর আগে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রবিবার বিএনপির ওই মামলার পর ঢাকার উত্তরার বাড়ি থেকে সাবেক সিইসি নূরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার আগে একদল মানুষ তাকে হেনস্থা করে, যা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।

সাবেক সিইসি নূরুল হুদা হেনস্থা হওয়ার পর ‘মব’ সৃষ্টিকারীদের হুঁশিয়ার করে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

সাবেক আমলা নূরুল হুদা ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সিইসির দায়িত্বে ছিলেন। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ‘দিনের ভোট রাতে’ কথাটি ওই নির্বাচন থেকে এসেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে যাওয়া আওয়ামী লীগ গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারায়। এরপর দলটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থাপনা আক্রান্ত হয়।  

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, “গ্রেপ্তারকৃত আসামি নূরুল হুদা ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারেননি এবং দেশকে গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত করেছেন। প্রশাসনকে একটি পক্ষে ব্যবহার করেছেন, যাতে করে সংবিধান অমান্য করেছেন এবং শপথ ঠিক রাখতে পারেননি।

“দণ্ডবিধি আইনের ১৭১ক ধারা মতে নির্বাচনের ছদ্মবেশ ধারণ করে দিনের ভোট রাতে সম্পাদন করার নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন। তিনি সেসময় নির্বাচন বডির প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি অন্যান্য কমিশনার এবং বিভাগীয় ও জেলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারি আদেশ, সাংবিধানিক ক্ষমতা হ্রাস, দেশের জনগণের ভোটাধিকার সঙ্ঘন করেছেন।”

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকা অবস্থায় তার পরামর্শে ও সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিতদের দ্বারা তিনি দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে মিথ্যা বিবৃতির মাধ্যমে একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন এবং মিথা গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করেছেন। একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করার লক্ষ্যে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রহসনমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। যাতে করে কোটি কোটি নতুন প্রজন্মের ভোটারগণ ভোট দিতে পারেনি। তাতে দেশে স্বৈরাচারীর বীজ বপন করা হয়েছিল।

“আসামি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা কার ইন্ধনে ও কী স্বার্থে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। আসামি একজন ফ্যাসিবাদী বডির মূল নায়ক। তার কাছ থেকে পাতানো নির্বাচনের কৌশল ও জড়িতদের উদঘাটন করা দরকার। গ্রেপ্তারকৃত আসামি কোন কোন সংসদ আমলে কার কার কাছ থেকে কত টাকা ঘুষ গ্রহণ করে ফলাফল পরিবর্তন করে গেজেটে সাজানো ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছেন- তার তথ্য উদঘাটন করা দরকার।

“একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাতানো নির্বাচন পরিকল্পনা করে স্বড়যন্ত্রমূলকভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের একত্রিত করে ঘুষ প্রদান করে নির্বাচনের ছদ্মবেশ ধারণ করে দেশের কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক ভাগ্যকে স্বৈরাচারের শাসনের গহবরে ঠেলে দিয়েছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অপকর্মের তথ্য ও সহযোগীদের সনাক্ত করতে তাকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।” 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সজিব সোহাগ রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করে বিএনপি; আসামির তালিকায় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা তিন সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনারদের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৯ জনের নাম রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত