ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২১২ জন। এ সময়ে কোভিড শনাক্ত হয়েছে আরও ২৮ জনের। ডেঙ্গু ও কেভিডে কারও মৃত্যু হয়নি এই ২৪ ঘণ্টায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত যে ২১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে ১১০ জনই বরিশাল বিভাগের।
বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬ জন, ঢাকা বিভাগের ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ জন, খুলনা বিভাগের ১২ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ জন। তাদের নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ হাজার ৬৭৮ জনে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, মোট ডেঙ্গু রোগীর প্রায় অর্ধেকই বরিশাল বিভাগের; ৩ হাজার ৯০ জন। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৯৮০ জন, ঢাকা বিভাগের ৬৪২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯৬২ জন, খুলনা বিভাগের ১৯৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১০৬ জন, রাজশাহী বিভাগের ১২২ জন, রংপুর বিভাগের ২২ জন আর সিলেট বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১ জন।
মোট ৬ হাজার ৬৭৮ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৯৫৮ জন; নারী ২ হাজার ৭১৯ জন। তাদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে এক হাজার ৭৭৩ জন আর চলতি মাসে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৩৩ জন।
এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৮৮৭ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ জন; নারী ১৪ জন।
এই ৩০ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৫ জন, খুলনা বিভাগের ২ জন আর ঢাকা বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আছে একজন করে। তাদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে মৃত্যু হয় ১০ জনের, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে মারা যায় ৩ জন করে। মার্চে কারও মৃত্যু হয়নি। এপ্রিলে মারা গেছে ৭ জন। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৭ জন।
২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গুর তথ্য রাখতে শুরু করে সরকার, সে বছরে রোগী ছিল পাঁচ হাজার ৫৫১ জন। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ মৃত্যুও দেখে দেশ।
অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন; তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
২২ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গু রোগী হয় তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের। তার আগে ২০১৯ সালে রোগী ছিল এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। ২০২০ সালে রোগী ছিল এক হাজার ৪০৫ জন।
সে বছরেই করোনা মহামারির মুখোমুখি হয় বিশ্ব। ভাইরোলিজস্টদের ব্যাখ্যা ছিল, যখন কোনও ভাইরাস মহামারির আকার ধারণ করে তখন অন্য ভাইরাসের প্রকোপ কমে যায়।
এর পরের বছর ২০২১ সালে ডেঙ্গু রোগী ছিল ২৮ হাজার ৪২৯ জন এবং ২০২২ সালে ছিল ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
কোভিড শনাক্ত আরও ২৮ জনের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড শনাক্ত হয়েছে আরও ২৮ জনের। এসময়ে এ রোগে কারও মৃত্যু হয়নি।
সর্বশেষ ২৮ জনকে নিয়ে চলতি বছরে কোভিডে শনাক্ত হয়েছে ৩৫৯ জনের। দেশে মোট করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯০১ জনের।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩০৮টির, তাতে রোগী শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ জন আর নারী ৫ জন। আর দেশে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫০৬ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে কারও মৃত্যুর তথ্য না জানালেও শেখ আমির হোসেন (৬৮) নামের একজন যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
এ হিসাবে দেশে এ বছর এ পর্যন্ত কোভিডে ৮ জনের মৃত্যু হলো।
