আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সব সংশোধনী আনার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
রবিবার রাতে পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংশোধনের আগে জারিকৃত অধ্যাদেশটি কার্যকর না করার আশ্বাসও তাদের দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের অপসারণ দাবিতে তাদের লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে বিকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ বাতিলসহ চার দফা দাবি আদায়ে কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
রবিবার দিনভর কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন শেষে সোমবার সকাল থেকে নতুন এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের রাতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রবিবার অর্থ উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারের একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত বিভাগের মর্যাদায় উন্নীত করা হবে।
“বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ও বিসিএস (কর) ক্যাডারের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শক্তিশালী করে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব নীতি পৃথকীকরণের কাঠামো কী রূপে প্রণীত হবে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটি ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
“এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শক্তিশালীকরণ এবং রাজস্ব নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম পৃথকীকরণে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সকল সংশোধনী আনা হবে। এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পূর্ব পর্যন্ত জারিকৃত অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হবে না।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “এই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সোমবার থেকে ঘোষিত কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলো।
“তবে, আমাদের দ্বিতীয় দাবি অর্থাৎ অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। আমরা আশা করছি, সরকার খুব শীঘ্রই আমাদের দ্বিতীয় দাবির পক্ষে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।”

এজন্য ইতোপূর্বে ঘোষিত এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের অপসারণ দাবিতে তাদের লাগাতার অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এনবিআর ভবনের সামনে বিকালের ওই সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ন কর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা, উপ-কমিশনার আবদুল কাইয়ুম এবং উপ কর কমিশনার রইসুন নেসা উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানান, এনবিআর ঐক্য পরিষদের চার দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
এক প্রশ্নে যুগ্ন কর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা বলেন, “ঐক্য পরিষদের চার দাবি পূরণের লক্ষ্যে গত ১৪ মে থেকে চলমান এই কর্মবিরতির ফলে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হয়েছে।”
“আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে আমরা নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময়ে কাজ করে অনিস্পন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করব।”
উপ-কমিশনার আবদুল কাইয়ুম বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা এবং অর্থ বছরের শেষ প্রান্তে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম সচল রাখতে চাই। এজন্য আমাদের মূল চারটি দাবি পূরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করার জন্য আমরা সরকারকে সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি বিভাগ করে ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশ বাতিল দাবিতে গত ১৪ মে ‘কলম বিরতি’ নামে আন্দোলনে নামে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। ফলে পুরো রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
রবিবার সারা দিন আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা সবাই এনবিআরের নিচতলায় বসে ছিলেন। বন্ধ ছিল ভবনে প্রবেশের প্রধান দুই ফটক। সবমিলে এনবিআর ভবনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল, ভোমরা স্থলবন্দরসহ দেশের অন্যান্য শুল্ক স্টেশনেও একইভাবে কর্মবিরতি চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপ কিমিশনার আবদুল কাইয়ুম মূল চার দাবির মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ কেন চান তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রাজস্ব সংস্কারের খসড়া প্রস্তুতির শুরু থেকেই প্রতিটি ধাপে তিনি অসহযোগিতা করে আসছেন। সরকারকে রাজস্ব কাঠামো নিয়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের আকাঙ্ক্ষার কথা জানানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের বাকি মূল দুই দাবি হচ্ছে- রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং এনবিআর প্রস্তাবিত খসড়া ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে রাজস্বব্যবস্থার সংস্কার করা।



