Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

এত দামি উপহার কি নিতে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
[publishpress_authors_box]

কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় এমন এক খবর চাউর হয়েছে, যা নিয়ে পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।

খবরটি হলো, কাতার ৪০ কোটি ডলার মূল্যের একটি উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উপহার দিতে চাইছে, যা তার প্রশাসন গ্রহণ করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন খোদ ট্রাম্পই।

এই উপহারকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ‘উদার মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করে এটি গ্রহণ না করা ‘বোকামি’ হবে-এমন কথাও বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে তার এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রেসিডেন্টের এ ধরনের উপহার নেওয়া ‘পুরোপুরি অবৈধ’।

এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকদের একাংশও এই উপহারের সমালোচনা করছেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নির্দিষ্ট মূল্যমানের ওপরে প্রেসিডেন্টদের বিদেশি উপহার গ্রহণ করতে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে।

এদিকে কাতার নিজেই বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ উপহার দেওয়ার যে খবর প্রকাশ হয়েছে, তা ‘ঠিক নয়’।

আলোচিত উড়োজাহাজটি ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

এমন পরিস্থিতিতে কাতারের উপহারটি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বিবিসি।    

প্রেসিডেন্ট হিসাবে এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উপহারটি সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের রাজপরিবার থেকে একটি বোয়িং জাম্বো জেট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। জানানো হয়, উড়োজাহাজটিকে সংস্কার করে সাময়িকভাবে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা যে বিমানে ভ্রমণ করেন, সেটির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ নাম হচ্ছে এই ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে কাতারের এই উড়োজাহাজের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি ৭৪৭ বিমান উপহার হিসেবে পাচ্ছে, কোনও খরচ ছাড়াই।

“৪০ বছরের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের মাধ্যমে এটি সাময়িকভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে একটি অত্যন্ত প্রকাশ্য এবং স্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে।”

পরে এবিষয়ে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেন, “কাতারের এই মহানুভবতাপূর্ণ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

“এমন প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া আমার ধাতে নেই।”

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান জেট সরাসরি বোয়িংয়ের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করেছিলেন ট্রাম্প।

সেগুলো পেতে বিলম্বের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।

হোয়াইট হাউস বরং ‘একটা বিমান কিনতে পারে বা জোগাড় করতে পারে, বা অন্য কিছু করতে পারে’, এমন কথাও তিনি বলেছিলেন তখন।

সেই মাসেই কাতারের আলোচিত উড়োজাহাজটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসস্থান ফ্লোরিডার পাম বিচে দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্প তখন সেখানে সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। 

বর্তমানে উড়োজাহাজটিতে তিনটি শয়নকক্ষ, একটি ব্যক্তিগত লাউঞ্জ এবং একটি অফিস কক্ষ রয়েছে।

পাম বিচে রাখা কাতারের উড়োজাহাজ।

কাতারের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, আলোচিত উড়োজাহাজটি দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে দিতে যাচ্ছে। এবং এটি এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার করা হবে।        

বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার করতে গেলে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

যার অর্থ ট্রাম্পের এবারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত উড়োজাহাজটি ব্যবহারযোগ্য নাও হতে পারে।

ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, তার মেয়াদ শেষ হলে উড়োজাহাজটি সরাসরি তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে পাঠানো হবে এবং তিনি তখন সেটি আর ব্যবহার করবেন না।

পুরো বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের কিছু সমর্থকেরও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন লরা লুমার। তিনি বলেন, “ঘটনা যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি প্রশাসনের জন্য বড় কলঙ্ক হয়ে থাকবে।”

উপহার নেওয়া কি বৈধ

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাটদের দাবি, কাতারের উপহার গ্রহণ করা আইন লঙ্ঘনের শামিল।

ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি অংশ উদ্ধৃত করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কোনও নির্বাচিত কর্মকর্তা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে ‘যেকোনো ধরনের উপহার’ গ্রহণ করতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্ক কোগলিয়ানো বলেন, “সংবিধানে উল্লেখিত ওই ধারা মূলত তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সরকারকে প্রভাবিত করতে কেউ ঘুষ দিতে না পারে।”

লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যান্ডু মোরান বলেন, “এটি অবশ্যই সংবিধানের সীমা অতিক্রম করছে।

“আমরা এই আকারের বা এই প্রকৃতির কোনও উপহার আগে কখনও দেখিনি।”

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের বিদেশি উপহার গ্রহণের বিষয়ে অনেক আইন পাস হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১৯৬৬ সালে পাস হওয়া ফরেন গিফটস অ্যান্ড ডেকোরেশনস অ্যাক্ট।

এই আইনে স্পষ্ট বলা আছে, নির্দিষ্ট মূল্যমানের ওপরে বিদেশি উপহার গ্রহণ করতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বর্তমানে ৪৮০ ডলার বা তার কম মূল্যের উপহার গ্রহণ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের এয়ার ফোর্স ওয়ান ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ট্রাম্প অবশ্য বলছেন, কাতারের দিতে চাওয়া উপহারটি শেষমেশ তার ‘লাইব্রেরিতে’ যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টদের সাধারণত একটি লাইব্রেরি থাকে, যেখানে তাদের নথিপত্র রাখা হয়। তাদের জন্য একটি জাদুঘরও বরাদ্দ থাকে, যা বেসরকারি অনুদানে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজটি সরাসরি প্রেসিডেন্টকে না দিয়ে যদি প্রশাসনকে দেওয়া হয় এবং পরে তার জাদুঘরে স্থানান্তর করা হয়, তাহলেও সংবিধান লঙ্ঘনের সম্ভাবনা এড়ানো যায় না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found