নেক্সট-জেনারেশন সিকোয়েন্সিং (এনজিএস)-ভিত্তিক ক্যান্সার নির্ণয় সেবাদান কার্যক্রম শুরু করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।
ক্যান্সারের চিকিৎসা আরও সুনির্দিষ্ট, সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করতে এটি একটি বড় অগ্রগতি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার থেকেই এই কার্যক্রম শুরু করেছে আইসিডিডিআর,বি। সেখানকার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার এ কে এম তারিফুল ইসলাম খান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে এখনও স্যাম্পল পাইনি।”
এর কারণ হিসেবে তিনি সদ্য চালু হওয়া কার্যক্রমটির কথা মানুষের না জানার কথাই বলেন।
তারিফুল ইসলাম খান বলেন, “মানুষ যত জানবে তত বেশি স্যাম্পল আসবে।”
দেশের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল, বিদেশে না পাঠিয়ে দেশেই যেন অত্যাধুনিক নির্ভরযোগ্য জিনোম সিকোয়েন্সিং-ভিত্তিক ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হয়। বর্তমানে অনেক রোগীকে ক্যান্সার পরীক্ষার জন্য বিদেশে নমুনা পাঠাতে হয় ও রিপোর্টের জন্য চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল, সেইসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ফলাফলও নির্ভরযোগ্য হয় না।
আইসিডিডিআর,বি জিনোম সেন্টার আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দুই সপ্তাহের মধ্যেই মানসম্পন্ন রিপোর্ট দিতে পারবে, যা রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা করবে। প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, এই রিপোর্টে ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসায় সম্ভাব্য কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতির নির্দেশনাও যুক্ত থাকবে। যার ফলে বাংলাদেশের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করবে বলা আশা করা হচ্ছে।
আইসিডিডিআর,বি-র সংক্রামক রোগ বিভাগের সিনিয়র বিজ্ঞানী ও ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র পরিচালক ড. মো: মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে নির্ভুল ও সহজলভ্য ক্যান্সার নির্ণয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
“আমাদের প্রতিশ্রুতি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও রোগীদের জন্য সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল দেওয়া, যা ক্যান্সার চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ আইসিডিডিআর,বি জিনোম সেন্টারকে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
ড. তাহমিদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, ক্যান্সারের মতো জটিল সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য যেন কাউকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে বা বিদেশে যেতে না হয়। দেশের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানাব রোগীদের চিকিৎসায় এই সেবার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার।”
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক বিএসএমএমইউয়ের ২০২৫ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রতি এক লাখ মানুষে ১০০ জনেরও বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত, যার মধ্যে স্তন, মুখগহ্বর, পাকস্থলী, গলা এবং জরায়ু মুখের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি।
এছাড়াও অনেকে রোগ নির্ণয়ে বিলম্বের সম্মুখীন হন জানিয়ে আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা অপরিহার্য। সঠিক পরীক্ষা এবং প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়ার পর সঠিক চিকিৎসা পেলে সুস্থ হবার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
রোগীদের কথা মাথায় রেখে মহাখালী, মিরপুর, মতিঝিল, ধানমন্ডি, উত্তরা, নিকেতন, গুলশান এবং বারিধারায় অবস্থিত আইসিডিডিআর,বি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।



