Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ব্লগার নাজিম উদ্দিন হত্যা : ৯ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

ব্লগার নাজিম উদ্দিন।
ব্লগার নাজিম উদ্দিন।
[publishpress_authors_box]

নয় বছর আগে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেসে ফেরার পথে লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ব্লগার নাজিম উদ্দিনকে।

ঘটনার পরদিন সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এরপর ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিচার। কবে নাগাদ বিচার শেষ হতে পারে, তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

তারা আশা করছেন, ব্লগার নাজিম উদ্দিন হত্যার বিচার কাজ শিগগিরই শেষ হবে; দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক সাজা পাবে।

সিলেটের বিয়ানীবাজারের টুক ভরাউট গ্রামে নাজিম উদ্দিনের বাড়ি। ২০১০ সালে সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স করেন তিনি। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন নাজিম।

২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাশ ও নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)- এই চারজন লেখক ও ব্লগার হত্যার পরের বছর ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাত সোয়া ৮টার দিকে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে নাজিম উদ্দিন খুন হন।

এই ঘটনায় করা মামলা এখন চলছে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালতে।

সবশেষ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেদিন সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় আগামী ১৯ মে নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন দিয়েছে আদালত।

ব্লগার নাজিম উদ্দিন হত্যার বিচার কবে শেষ হতে পারে- এ প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার এসব মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তিতে কাজ করছে।

“রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রত্যাশা করছি, দ্রুত এ মামলার বিচার কাজ শেষ হবে এবং ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”

এবিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, “মামলায় কেবল বাদীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্য সাক্ষীরা আদালতে আসতে চান না। আবার প্রসিকিউশনও সাক্ষী হাজির করতে পারেন না।

“মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একপাক্ষিকভাবে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এভাবে বছরের পর বছর ধরে বিচার ছাড়া মামলা চলতে পারে না। আসামিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা চাই, মামলার বিচার দ্রুত শেষ হোক। দোষীদের শাস্তি হোক এবং নিরপরাধ ব্যক্তি মুক্তি পাক।”

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক জিয়াসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ২০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

গত বছরের ২৪ জানুয়ারি জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

একই সঙ্গে আসামি মোজাম্মেল হোসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান, ওয়ালি উল্লাহ ওরফে ওলি, সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে কনিক ও জুনেদ আহম্মেদ ওরফে জুনায়েদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জিয়া ছাড়া মামলার অপর তিন আসামি হলো- রশিদ উন নবী, শেখ আবদুল্লাহ ও আকরাম হোসেন।

এই চার আসামির মধ্যে রশিদ উন নবী ও শেখ আবদুল্লাহ কারাগারে আছেন। অন্য মামলায় কারাগারে আছেন মোজাম্মেল হোসাইন ও আরাফাত রহমান। বাকিরা পলাতক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্লগে ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করার কারণে নাজিম উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম।

তাদের শীর্ষ নেতা ও সামরিক শাখার প্রধান জিয়াউল হক জিয়ার পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন মোজাম্মেল হোসাইন ওরফে সায়মনের নেতৃত্বে একটি দল নাজিম উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অবস্থান রেকি করে। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণ এবং এরপর হত্যাকারীদের পালাতে সহযোগিতার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শেখ আবদুল্লাহ। নাজিম উদ্দিনকে হত্যার পর জিয়াউল হক জিয়াকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found