Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

কারাগারে এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইমামোগলু, বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক

ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ।
ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ।
[publishpress_authors_box]

ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে পাঠানো এবং বিচার হওয়া পর্যন্ত তাকে কারান্তরীণ রাখার আদালতের নির্দেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে তুরস্কের জনগণ।

ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে গত বুধবার শুরু হওয়া বিক্ষোভ পাঁচ দিনে দেশটির ৮১টি প্রদেশের মধ্যে ৫৫টিতেই ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) হয়ে তুরস্কের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে রবিবার মনোনীত হওয়ার কথা ছিল ইমামোগলুর। তার আগেই গত বুধবার তাকে আটক করা হয়।

সেদিনই প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ৫৪ বছর বয়সী ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে।

এরপর রবিবার ইস্তাম্বুলের মেয়রকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতিসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে তুরস্কের একটি আদালত বিচার হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয়।    

এর প্রতিবাদে রবিবার সন্ধ্যায় ব্যাপক বিক্ষোভ করে তুরস্কের মানুষ। এর আগে দেশটিতে এমন বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল ২০১৩ সালে; ইস্তাম্বুলের গেজি পার্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে যার সূত্রপাত।

রবিবার ইমামোগলুকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার আগে সোশাল মিডিয়া এক্সে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। আমি কখনও হার মানব না।”

অন্যদিকে ইস্তাম্বুলের মেয়রের মুক্তির দাবিতে তুরস্কের জনগণের স্বতংস্ফূর্ত বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ইমামোগলুর দল সিএইচপি দেশের শান্তি বিঘ্নিত করে মানুষকে বিভাজিত করতে চাইছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভের পঞ্চম দিন রবিবার সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুলের সিটি হলের কাছে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা। হাতে তুরস্কের পতাকা নিয়ে দাঙ্গা পুলিশের সামনে তারা ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

তাদের ছত্রভঙ্গ করতে একপর্যায়ে পেপার স্প্রে ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তারা।   

সেসময় সিটি হলের বাইরে ইমামোগলুর স্ত্রী দিলেক কায়া ইমামোগলু বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তা সবার বিবেককে নাড়া দিয়েছে।”                      

বিক্ষোভ দমনে রবিবার রাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের মধ্যে কমপক্ষে ৫৫টিতে ইমামোগলুর মুক্তির দাবিতে ৫ দিন ধরে বিক্ষোভ হচ্ছে।

গত বুধবার ১০০ জনের বেশি রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের তদন্তের অংশ হিসেবে আটক করে এরদোয়ান সরকার। তাদের মধ্যে ইস্তাম্বুলের মেয়রও আছেন।

রবিবার তার বিরুদ্ধে ‘অপরাধী সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, ঘুষ নেওয়া, চাঁদাবাজি, বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত তথ্য রেকর্ড করা ও টেন্ডার কারচুপির’ অভিযোগ এনে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে ইস্তাম্বুল প্রদেশের সিলিভরি পৌরসভায় এক কারাগারে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপিসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।       

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found