অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ইরানের র্যাপার তুমাজ সালেহি। গত এপ্রিলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন দেওয়ায় তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল ইরান সরকার।
২০২২ সালে মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে সমর্থন দেন এই র্যাপার। ফলে ইরানের ‘বিপ্লবী আদালত’ তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি ইরানের ‘নীতি পুলিশ’- এর হেফাজতে মারা যান।
জনসম্মুখে বিক্ষোভের সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সালেহিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ইরানের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেও গান গেয়েছেন। গানে গানে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন।
কারাবাসের সময় সালেহি অভিযোগ করেন, জেলখানায় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মারধরের ফলে তার হাত-পা ভেঙ্গে যায়।
এ বছর জুন মাসে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেও, তাকে মুক্তি দিতে অস্বীকার করে।

সালেহির মুখপাত্র নেগিন নিকনাম দ্য গার্ডিয়ান-কে জানান, সালেহি এবং তার পরিবারকে মুক্তির বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
ওই মুখপাত্র বলেন, “তুমাজ সালেহি নিজেও জানতেন না যে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। রাত সাড়ে ১১টায় তাকে বলা হয় যে তাকে এখনই ছেড়ে দেওয়া হবে। তার বাবা তখন ঘুমাচ্ছিলেন। গভীর রাতে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, কারণ তার জনপ্রিয়তার কারণে লোকজন কারাগারের বাইরে জড়ো হতে পারে বলে তারা শঙ্কিত ছিল।”
এদিকে সালেহির মুক্তিতে বেলজিয়ামে অবস্থানরত সালেহির ‘কাজিন’ আরেজু এঘবালি বাবাদির প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।
তিনি জানান, সালেহির মুক্তির খবর তাদের পরিবার এবং তার ভক্ত অনুরাগীদের সমর্থকদের মাঝে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।
বাবাদি বলেন, “আমরা আজ তার মুক্তি উদযাপন করছি। কিন্তু আমরা কখনই ভুলব না যে শুধুমাত্র স্বাধীনতা এবং মানবতার পক্ষে থাকার জন্য তার কারাগারে যাওয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, অন্যায়ভাবে বন্দি অসংখ্য মানুষ আজ একটি মুক্ত ইরানের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।



