১০টিরও বেশি গান থাকা হিন্দি সিনেমার যুগ এখন অতীত। গত শতকের ৯০- এর দশক এবং ২০০০-এর শুরুর দিকে বলিউডের অনেক সিনেমাতেই ১০টি বা তার বেশি গান থাকত। ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ এবং ‘তাল’ এর মতো সিনেমার কথাই ধরা যাক। যেগুলোতে এক ডজনেরও বেশি গান ছিল। কিন্তু এই ছবিগুলোও টেক্কা দিতে পারেনি ১৯৩২ সালে মুক্তি পাওয়া একটি ছবিকে। এটি ছিল ভারতের প্রথম দিকের মিউজিক্যাল সিনেমাগুলোর একটি। আশ্চর্যজনকভাবে ওই সিনেমায় গানের সংখ্যা ছিল ৭২টি!

সিনেমাটির নাম ‘ইন্দ্রসভা’। ১৯৩২ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রে মিউজিক্যাল যুগের সূচনা করেছিল। কোন কোন সূত্রের মতে এতে গানের সংখ্যা ছিল ৬৯। ১৯৮০ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এটিকে সর্বাধিক গানের চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই সিনেমাটি গান ও নাচের ধারণাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মনিলাল জোশি পরিচালিত এই সিনেমার দৈর্ঘ্য ছিল ২১১ মিনিট। আগা হাসান আমানত রচিত এক উর্দু নাটকের গল্প থেকে এই সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়। নাটকটির নাম ছিল ‘ইন্দর সভা’। নাটকের মতোই ‘ইন্দ্রসভা’ সিনেমাটিতে প্রতিটি চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় গানের মাধ্যমে। ‘দ্য ক্যামব্রিজ গাইড টু এশিয়ান থিয়েটার’- এ জেমস আর ব্র্যান্ডন উল্লেখ করেছেন যে নাটকটিতে ছিল ৩১টি গজল, গয়া ও বেনারস ঘরানার ৯টি ঠুমরি, ৪টি হোলি এবং ১৫টি গান। যা কিনা ওই সিনেমায় নাচের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে দেয়।
লিমকা বুক অব রেকর্ডস উল্লেখ করেছে যে সিনেমাটিতে প্রতিটি প্রধান চরিত্রের জন্য আলাদা গান ছিল।
সুরাজ বরজাতিয়ার ১৯৯৪ সালের মিউজিক্যাল ড্রামা ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এ ছিল ১৪টি গান। সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’-এ ছিল ১২টি গান, আর আদিত্য চোপড়ার ‘মোহাব্বতে’-তে ছিল ৯টি গান। পাশাপাশি এই সিনেমাগুলোতে কিছু ইন্সট্রুমেন্টালও ছিল। একইভাবে, ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’-এ ছিল ১৪টি গান। তুলনায়, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-তে ছিল মাত্র ৭টি গান। এই সিনেমাগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশ সঙ্গীত নির্ভর ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই সবকটি সিনেমার সম্মিলিত গানের সংখ্যা ৫৬টি। যা কিনা ‘ইন্দ্রসভা’র তিন-চতুর্থাংশ মাত্র!



