পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন নামে একটি সংগঠন।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি এই দাবি তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ আধিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২৬ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল উপাদানগুলো অনেকাংশে অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসী জনগণ এবং সারাদেশের নাগরিকদের এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। দ্রুত এ চুক্তি বাস্তবায়নে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে– চুক্তিটিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থাসহ একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকরী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা; পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক তত্ত্বাবধান বন্ধ করা; আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের ক্ষমতায়ন; ভূমি অধিকার এবং পুনর্বাসন; অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়ন; সমতলের আদিবাসীদের জন্য প্রতিনিধিত্বশীল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা করা।
এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য আরও পাঁচটি বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান সংগঠনের নেতারা। এগুলো হলো– পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির পুনর্গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সক্রিয় করা, আঞ্চলিক পরিষদের সাথে সংলাপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্ঠা পরিষদের পুর্নগঠন ও সমতল ভূমির আদিবাসীদের রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কিন্তু পাহাড়িরাও অংশ নিয়েছেন। সবক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হলে পাহাড়িদের মধ্যে বলবৎ থাকা এই বৈষম্য কেন দূর করা হবে না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অজুহাত তুলে পাহাড়ে সামরিক শাসন জারি রাখা হয়েছে, এটি চলতে পারে না। দেশের সকল নাগরিকের জন্যই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।



