Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সুখবর পেলেন বেসরকারি ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
[publishpress_authors_box]

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত ৫ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারীকে অবসরের ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

৫ বছর আগে দায়ের করা এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্যাহ মিয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

রায়ের সময় হাইকোর্ট বলেছে, এটা সত্য যে শিক্ষকদের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট (অবসরকালীন সুবিধা) পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে কোনোভাবেই পার পান না তারা। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এজন্য ৬ মাসের মধ্যে তাদের অবসরভাতা দিতে হবে।

রায়ের পর আইনজীবী সিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, “২০১৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হতো। সেই কেটে রাখা টাকাসহ কিছু সুবিধা অবসরের পর দেওয়া হতো। এই অবস্থায় ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হলেও ৬ শতাংশের সুবিধা দেওয়াই বহাল রাখা হয়।

“এরপর সারাদেশে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ লাখের বেশি শিক্ষক কর্মচারির জন্য অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে একটি রিট আবেদন করি। সেখানে ১০ শতাংশের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়। এই রিটের প্রেক্ষিতে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সেই রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হলো।”

রায় জানিয়ে আদালত বলেছে, ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হলেও তাদের যেন বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অবসরের ছয় মাসের মধ্যে যেন অবসরকালীন সুবিধা প্রদান করা হয়।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধান ছিল। যার বিপরীতে শিক্ষকদের ট্রাস্টের তহবিল থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল এ বিধান সংশোধন করে ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ করে কাটার দুইটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন শেষে অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনও বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারীদের ২০১৯ সালের এপ্রিলের বেতন থেকে ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়।

কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে কোনও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কাটার আদেশ বাতিল করতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও সঠিক পদক্ষেপ না নিলে তারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাতেও কোনও কাজ না হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত