Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

নয়াদিল্লিতে শীর্ষ স্তরের নিরাপত্তা বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
[publishpress_authors_box]

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৯ ও ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম এনএসএ স্তরের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

এনএসএ স্তরে সদস্যদেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এই আঞ্চলিক ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য খলিলুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। গত এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিমসটেকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাশাপাশি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

খলিলুর রহমান এর আগে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত চায়না-ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

নয়াদিল্লিতে সিএসসি বৈঠকে তার অংশগ্রহণকে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সম্মেলনে অংশ নিতে অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে খলিলুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান অজিত দোভাল।

দিল্লিতে সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে কোনও বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি : প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি : প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

তবে ভারতীয় একটি সূত্র আভাস দিয়েছে, খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরে দুজনের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল এবং অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির পটভূমিতে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ রয়েছে। ফলে ২০ নভেম্বরের সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তাদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

গত বছরের আগস্টে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর এটা হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় কোনেও উপদেষ্টার দিল্লি সফর। এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে অংশ নিতে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ভারত সফরে যান।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক মাস পর নিউ ইয়র্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারা আলোচনায় বসেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এসব আলোচনার বাইরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন এবং যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি কমিটির বৈঠক হয়েছে। এ বছরের মে মাসে কনস্যুলার সংলাপ আর জুনে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব বাংলাদেশ দিয়েছিল। বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ভারত।

প্রসঙ্গত, কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ হচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরাম। এই ফোরামের সদস্যদেশগুলো হলো ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস ও বাংলাদেশ। আর সেশেলস পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত আছে। বাংলাদেশ এই ফোরামে ২০২৪ সালে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মধ্য দিয়ে সদস্যদেশগুলো শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সনদ ও সমঝোতা স্মারক সই করেছে। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এই ফোরামের মূল লক্ষ্য, যেখানে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা; সন্ত্রাস ও চরমপন্থা প্রতিরোধ; মানব পাচার ও আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন; সাইবার নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সুরক্ষা; মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগে ত্রাণসহায়তা।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই কনক্লেভ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময়, যৌথভাবে নীতি সমন্বয় ও সক্ষমতা উন্নয়ন সহজতর করে। ফোরামের সচিবালয় শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে প্রতিষ্ঠিত হলেও চক্রাকারে সদস্যদেশগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ নানা পর্যায়ের বৈঠকগুলোর আয়োজন করা হয়।

তথ্যসূত্র : বাসস, প্রথম আলো

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found