বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের পর উত্তাল দেশের ক্রিকেট। ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটিও করেছে বিসিবি। ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের। সেই রিপোর্টের আগে পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলতে চান না বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর মনে করেন অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলার সুযোগ নেই। তবে আসিফের বিশ্বাস নির্ভেজাল তদন্তের জন্য অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করা উচিত সবার। কেউ যদি দোষী হয় তবে বিসিবি যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আসিফ।
আজ রবিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আকবর বললেন, ‘‘দেখুন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলাটা অপরাধ। বিসিবি ১৫ দিন সময় নিয়েছে। তদন্ত কমিটি করেছে। আপাতত ১৫ দিন অপেক্ষা করা উচিত। ১৫ দিন পর যদি উল্টাপাল্টা কিছু হয়, তাহলে আমরাই মোকাবিলা করব। অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ বর্তমানে যে উচ্চতায় আছে, আমাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে ফালতু সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। কঠোরভাবে সমাধান করতে হবে।’’
প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম এখন চীনে। তিনি চীন নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ। ফেইসবুক পোস্টে তিনি বিসিবির তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রেশমা আক্তার আদুরি একটি দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যৌন হয়রানির জন্য দায়ী করেছেন আরও অনেককে। তার দাবি, ‘‘বিসিবির নারী বিভাগে যত পুরুষ কাজ করেছেন, সেটি বিভাগীয় প্রধান থেকে শুরু করে ইনচার্জ এবং অন্যান্য দায়িত্বে থাকা পুরুষরা—তাঁদের শতকরা ৮০ ভাগই মেয়েদের উত্ত্যক্ত করেছেন। নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দেওয়া থেকে শুরু করে যতভাবে ‘অ্যাবিউজ’ করা যায়, তাঁরা সেটি করেছেন। এবং জাতীয় দলের শতকরা ৯৯ ভাগ ক্রিকেটারই এসবের শিকার হয়েছেন।’’
রেশমা আক্তার আদুরি অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের দিকেও, ‘‘ফাহিম স্যার। নাজমুল আবেদীন ফাহিম। অনেক মেয়ের কাছ থেকেই আমি উনার চারিত্রিক সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আর উনার বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তো আছেই। বিকেএসপির মেয়েরা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো মেয়ে ক্রিকেট খেলতে পারে বলে উনি মনেই করেন না। কোরাম শুধু জ্যোতির (নিগার সুলতানা) একার নয়, ফাহিম স্যারেরও কোরাম আছে।’’
দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস না হতেই এমন অভিযোগ জেনে বিব্রত আসিফ আকবর। তবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বললেন তিনি, ‘‘যেহেতু আমরা বোর্ডে মাত্র নতুন দেড় মাস হয়েছে আমাদের, আমরা চেষ্টা করছি কোনো রকম বিতর্ক ছাড়া, যেগুলো হয়েছে অতীতে, সেগুলো যেন আমরা আর ক্যারি না করি। আমরা একটু ধারাবাহিকতা যেন বন্ধ করে দেই আমরা। সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’’



