Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ঐকমত্য কমিশনকে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান ৫৩ নাগরিকের

সনদে সই করার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশন ‘অসম্ভবকে সম্ভব’ করেছে। সারা বিশ্বের কাছে এটি ‘উদাহরণ হয়ে থাকবে’। ছবি : পিআইডি
সনদে সই করার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশন ‘অসম্ভবকে সম্ভব’ করেছে। সারা বিশ্বের কাছে এটি ‘উদাহরণ হয়ে থাকবে’। ছবি : পিআইডি
[publishpress_authors_box]

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৫৩ জন নাগরিক, যাদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনীতি বিশ্লেষক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, অধিকারকর্মী, সঙ্গীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে তারা এই আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির মীমাংসা না করে তাড়াহুড়া করে সংবিধানের সংস্কার আনলে অনৈক্য দীর্ঘস্থায়ী হবে। গভীর সঙ্কট দেখা দিতে পারে রাজনীতিতে।

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী শক্তির জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্রর পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একদল মানুষের ঐকান্তিক চেষ্টার ফল বহুল আলোচিত এই জুলাই সনদ। যার জন্য তারা ধন্যবাদ প্রাপ্য। তবে এ সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রকাশ হওয়ার পর নতুন করে অনৈক্যের সুর বেজে উঠেছে।

তারা বলেছেন, “আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়ে সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ঐকমত্যে পৌঁছানো পর্যন্ত ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম চলমান থাকা জরুরি।

“অন্যান্য দেশের সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমরা যেমন দেখি একাধিক বছরব্যাপী তারা আলাপ জারি রাখে, আমরা মনে করি বর্তমান সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্যে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া সমীচীন হবে।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া খবর থেকে জানা যায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনৈক্য স্পষ্ট হয়েছে। 

“আমরা মনে করি, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সব বিষয়ে সব দল একমত হবে এমনটা আশা করা অযৌক্তিক। সে ক্ষেত্রে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে এবং সংসদের বাইরে এসব আপত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া জরুরি।

“কেবল আলাচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো আমাদের সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঐকমত্য কমিশন তাদের দেওয়া ২৭০ দিনের (নয় মাস) সময়সীমা  বাড়িয়ে দুই বছর বা যৌক্তিক সময় নির্ধারণ করতে পারে।”

অভ্যুত্থানের বিজয় উল্লাস; সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের দমন অভিযানে রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে তা রূপ নেয় অভ্যুত্থানে। তাতে ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা দেশ; জনতার ঢল উঠে পড়ে গণভবনের ছাদে মোবাইল টাওয়ারেও। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
অভ্যুত্থানের বিজয় উল্লাস; সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের দমন অভিযানে রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে তা রূপ নেয় অভ্যুত্থানে। তাতে ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা দেশ; জনতার ঢল উঠে পড়ে গণভবনের ছাদে মোবাইল টাওয়ারেও। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

তারা বলেছেন, “আমরা মনে করি, সংবিধান যেকোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এবং সম্মিলনের প্রতীক। সংবিধান ও সংসদের কার্যক্রম, মর্যাদা অটুট রাখতে ঐক্যের বিকল্প নাই। ঐকমত্য কমিশন নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়ার ফলে এ ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।”

তারা মনে করছেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির মীমাংসা না করে তাড়াহুড়া করে সংবিধানের সংস্কার আনলে অনৈক্য দীর্ঘস্থায়ী হবে ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর সঙ্কট দেখা দিতে পারে।

“একইসাথে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকলে পলাতক ফ্যাসিস্ট এবং তার সহযোগী শক্তির জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। যার ফলে সনদ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নির্ধারিত গণভোট বা জাতীয় নির্বাচন আয়োজনও ব্যর্থ হতে পারে।”

বিবৃতিতে তারা আরও বলেছেন, “সর্বোপরি আমাদের মনে হয়েছে, ঐকমত্য কমিশনে লেখক, চিন্তক, অ্যাক্টিভিস্ট ও সুশীল সমাজসহ দেশের অন্যান্য অংশীজনের সংযুক্তি বিবেচনা নিতে পারে। অরাজনৈতিক অংশের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিভেদ কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

“জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সব দল ও মতের ঐক্যের ওপর। আমরা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাই।”

বিবৃতিতে সম্মতি জানিয়েছেন যারা :

কাজল শাহনেওয়াজ, কবি

জাহেদ উর রহমান, শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

আর রাজী, অধ্যাপক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আমিরুল ইসলাম, অধ্যাপক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মোস্তফা নাজমুল মনসুর তমাল, অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আবুল ফজল, অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

মোস্তফা কামাল পলাশ, আবহাওয়াবিদ

রাখাল রাহা, লেখক ও সম্পাদক

জি এইচ হাবীব, সহকারী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নাহিদ হাসান, কবি লেখক ও সংগঠক

আবুল কালাম আল আজাদ, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

আহমেদ স্বপন মাহমুদ, কবি

সায়েমা খাতুন, নৃবিজ্ঞানী

গাজী তানজিয়া, কথাসাহিত্যিক

রেজাউর রহমান লেনিন, মানবাধিকারকর্মী

সালাহ উদ্দিন শুভ্র, কথাসাহিত্যিক

সাঈদ বারী, প্রকাশক

মাহাবুবুর রহমান, প্রকাশক

মৃদুল মাহবুব, কবি

অমল আকাশ, সঙ্গীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

চিনু কবির, কবি ও সংগঠক

সাঈদ বারী, প্রকাশক

জামাল ভাস্কর, কবি ও অনুবাদক

আরিফুল ইসলাম সাব্বির, সাংবাদিক

অ্যাডভোকেট মমিনুর রহমান, আইনজীবী

ইমামুল বাকের এপোলো, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সঙ্গীতশিল্পী

অনি আতিকুর রহমান, সাংবাদিক

পলিয়ার ওয়াহিদ, কবি ও সাংবাদিক

রাসেল রায়হান, কথাসাহিত্যিক

সানাউল্লাহ সাগর, কবি

এনামুল হক পলাশ, কবি ও সংগঠক

শাকিলা খাতুন, রাজনৈতিক কর্মী

আব্দুল মজিদ অন্তর, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

তানভীর আহমেদ, গবেষক

সোয়েব মাহমুদ, কবি

মেশকাত চৌধুরী, সাবেক সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

হারুন-অর-রশিদ, চলচ্চিত্র গবেষক

তছলিমা শাহনুর, কবি ও কথাসাহিত্যিক

মাসুম মুনওয়ার, কবি

আরিফ রহমান, লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী

জব্বার আল নাঈম, কবি ও কথাসাহিত্যিক

রাফসান আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী ও সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

আশরাফুল ইসলাম, থিয়েটার কর্মী

সাজ্জাদ বিপ্লব, কবি ও সম্পাদক

পিন্টু রহমান, কথাসাহিত্যিক

রকিব লিখন, জুলাই যোদ্ধা

শাহনেওয়াজ আরেফিন, চলচ্চিত্র নির্মাতা

শাদমান শাহিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক

আফসানা জাকিয়া, কবি ও কথাসাহিত্যিক

শামীম রেজা, কবি ও এক্টিভিস্ট

ফুয়াদ সাকী, কবি ও এক্টিভিস্ট।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found