Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

জাকসুতেও এল শিবির

জাকসু নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর উল্লসিত স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, এজিএস প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ও নারী এজিএস প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা।
জাকসু নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর উল্লসিত স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, এজিএস প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ও নারী এজিএস প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা।
[publishpress_authors_box]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে জয় পেয়েছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেলের প্রার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু।

আলোচিত এই নির্বাচনে জিএস পদে জয় পেয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

জাকসুতে পদ ২৫টি। ১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টি জিতেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি চারটি পদের মধ্যে ভিপিসহ তিনটি পদে স্বতন্ত্র এবং একটিতে অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল এনসিপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) প্রার্থী জয় পেয়েছেন। কার্যকরী সদস্যের ছয় পদের পাঁচটি জিতেছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা, একটিতে বাগছাসের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সবমিলিয়ে জাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ২০টি, স্বতন্ত্ররা তিনটি এবং বাগছাস দুটি পদে জয় পেয়েছে। এর আগে ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির। এর মধ্য দিয়ে ডাকসুর পর জাকসুর নিয়ন্ত্রণ নিল ইসলামী ছাত্রশিবির, যারা কখনও জাকসুতে কোনও পদ পায়নি।

ডাকসু নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় গত ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকার অদূরে সাভারের এই ক্যাম্পাসের ভোটগ্রহণ নিয়ে সারা দেশের মানুষের আগ্রহ ছিল। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফল ঘোষণা শুরু হয়।

শুরুতে হল সংসদের ফল ঘোষণা করা হয়। একে একে ২১টি হল সংসদের ফল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অর্থাৎ জাকসুর ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান।

আব্দুর রশিদ জিতু ও মাজহারুল ইসলাম

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে আব্দুর রশিদ জিতু ৩৩৩৪ ভোট পেয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবিরের আরিফুল্লাহ আদিব ২৩৮৯ ভোট পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মাজহারুল ইসলাম ৩৯৩০ ভোট পেয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাগছাসের প্রার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম পেয়েছেন ১২৩৮ ভোট।

এজিএসের দুটি পদেই ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান ২৩৫৮ ভোট এবং আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ৩৪০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

অন্যান্য পদে জয় পেয়েছেন যারা

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক- আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), ২৪২৮ ভোট। পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক- মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), ২৮১১ ভোট। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক- মো. জাহিদুল ইসলাম বাপ্পী (শিবির প্যানেল), ১৯০৭ ভোট। সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র), ২০১৮ ভোট। সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), ১৯৮৬ ভোট। নাট্য সম্পাদক- মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ১৯২৯ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক- মাহমুদুল হাসান কিরণ (স্বতন্ত্র), ৫৭৭৮ ভোট। সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী)- ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), ১৯৭৬ ভোট। সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ)- মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), ২১০৫ ভোট। তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক- মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), ২৪৩৬ ভোট। সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক- আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), ১৬৯০ ভোট। সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী)- নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), ২৯৬৬ ভোট। সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ)- মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), ২৪৪২ ভোট। স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক- হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল), ২৬৫৩ ভোট। পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক- মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল), ২৫৫৯ ভোট।

কার্যকরী সদস্য

মো. তরিকুল ইসলাম (পুরুষ, শিবির প্যানেল), ১৭৪৬ ভোট। মো. আবু তালহা (পুরুষ, শিবির প্যানেল), ১৮৫৪ ভোট। মোহাম্মদ আলী চিশতি (পুরুষ, বাগছাস), ২৪১৪ ভোট। নাবিলা বিনতে হারুণ (নারী, শিবির প্যানেল), ২৭৫০ ভোট। ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (নারী, শিবির প্যানেল), ২৪৭৫ ভোট। নুসরাত জাহান ইমা (নারী, শিবির প্যানেল), ৩০১৪ ভোট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শনিবার নিয়ে তৃতীয় দিনের মতো গণনা চলে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শনিবার নিয়ে তৃতীয় দিনের মতো গণনা চলে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

গত ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনটির প্যানেল জিতেছে বিপুল ভোটে। শিবিরের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম একাই যত ভোট পেয়েছেন, অন্য সব প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট যোগ করলে তার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি হয়।

জাকসুতে ২৫ পদের জন্য লড়াইয়ে ছিল ১৭৭ জন। তার মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে ৮ জন। হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৪৫ জন।

ঘোষিত ফলে দেখা গেছে- ১৩ নং (ছাত্রী) হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন নাহাদাতুন হাসানা। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন মোহসিনা তুবা। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন সাদিয়া মেহজাবিন। বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ফারহানা রহমান, জিএস হয়েছেন ফাতেমা তুজ–জোহরা। এজিএস রায়হানা সরকার।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন অমিত কুমার বণিক। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদুল হাসান। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা আদনান ইসলাম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা)। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন সিফাত উল্লাহ। জিএস হয়েছেন মাহমুদুল হাসান। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন তারিক আহমেদ।

ফজিলতুন্নেসা হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ঐশী সরকার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা)। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন ফারজানা তাবাসসুম। এজিএস প্রমা রাহা। শহীদ রফিক-জব্বার হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদি হাসান। জিএস হয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন আরিফুল ইসলাম।

২১ নং (ছাত্র) হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ইবনে শিহাব। জিএস হয়েছেন ওলিউল্লাহ মাহাদী। এজিএস হয়েছেন তুষার আহমেদ। কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন রাকিবুল ইসলাম। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন আলী আহমেদ। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন সামিন ইয়াসির।

আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন জিএমএম রায়হান কবীর। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন আবরার শাহরিয়ার। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন রিপন মন্ডল (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা)। মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন খালেদ জুবায়ের। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন শাহরিয়ার নাজিম। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন আরাফাত হোসেন।

মওলানা ভাসানী হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল হাই স্বপন। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন হৃদয় পোদ্দার। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন রাকিব হাসান। শহীদ সালাম–বরকত সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন মারুফ হোসেন। জিএস হয়েছেন মাসুদ রানা, এজিএস আবরার আজিম ভুঁইয়া।

আলবেরুনী হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন রিফাত আহমেদ শাকিল। জিএস হয়েছেন মুনতাসির বিল্লাহ খান। এজিএস সাদমান হাসান খান। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন বুবলী আহমেদ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা)। জিএস হয়েছে সুমাইয়া খানম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা), এজিএস প্রার্থী নেই।

১০ নং (ছাত্র) হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন আসিফ মিয়া। জিএস নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদী হাসান। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন নাদিম মাহমুদ। ১৫ নং (ছাত্রী) হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন শারমীন খাতুন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা)। জিএস মেহনাজ মোহনা। এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন শাহানা আক্তার।

বৃহস্পতিবার জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শুরুতেই অব্যবস্থাপনার নানা ত্রুটি বেরিয়ে আসতে থাকে। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ দেরিতেও শুরু হয়। প্রার্থীদের নানা অভিযোগের মধ্যে ভোটগ্রহণ চলার পর একে একে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোসহ পাঁচটি প্যানেল।

ডাকসুতে জয়ী ইসলামী ছাত্রশিবির এবং তাদের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নির্বাচন বর্জনের এই মিছিলে যোগ দেয়নি। তবে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদেরও নানা অভিযোগ রয়েছে।

ক্লান্তি নিয়ে জাকসু নির্বাচনের ফলের অপেক্ষা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে।
ক্লান্তি নিয়ে জাকসু নির্বাচনের ফলের অপেক্ষা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে।

জাকসু নির্বাচনে ভোটার ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। তার মধ্যে ৬৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন ধারণা দিয়েছে। সেই হিসাবে গণনা করতে হয় ৮ হাজার ৫৩ ভোট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনে মোট ভোট ছিল ৩৯ হাজার। তার মধ্যে ৮০ শতাংশের মতো ভোট গ্রহণ হয়েছিল। সেই হিসাবে ভোট দিয়েছিল ৩১ হাজার শিক্ষার্থী। যন্ত্রে তা গণনার পর ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ফল ঘোষণা করা হয়েছিল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যবস্থাপনা, অভিযোগ আর বর্জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জাকসু ও হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ডাকসুর মতো জাকসুতেও ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার প্রস্তুতি ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার কোম্পানি থেকে ওই যন্ত্র আনার খবরে সমালোচনা ওঠায় ব্যালট পেপার হাতে গণনার সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর নাম ব্যালটে না ওঠায় হাতে লিখেও ‘টিক’ দিতে হয়েছে ভোটারদের। ফলে সেগুলোও মেশিনে গণনা সম্ভবপর ছিল না।

২১টি হলে ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স ক্যাম্পাসের সিনেট ভবনে নেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় গণনা। শুক্রবার বিকাল অবধি হল ছাত্র সংসদের ব্যালট গণনা শেষ হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ব্যালট গণনা শেষ করা যায়নি শনিবার দুপুরেও।

এতে সংশ্লিষ্ট যে শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছিলেন, তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই সঙ্গে ফল জানতে বসে থাকার সময় দীর্ঘ হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন চলার মধ্যে অসুস্থ হয়ে এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছিল। জাকসুর ভোট গণনার মধ্যে শুক্রবার এক শিক্ষকের মৃত্যুতে শোকের আবহ তৈরির সঙ্গে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

এ নির্বাচনকে কেন্দ্র তরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মূল ফটকগুলোতে বিজিবি সদস্যদেরও দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে টানা তিন দিনই ভোট গণনাস্থল সিনেট ভবন ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

গণনার সময় রাতভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফটকগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি প্রশ্ন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মনে, যা নিয়ে তারা সোশাল মিডিয়ায় লেখে।

ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই জয় পান ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা। ভিপি, জিএস ও এজিএস- শীর্ষ এই তিন পদ ছাড়া ডাকসুর ১২টি সম্পাদক পদের মধ্যে ৯টিতে বিজয়ী হন তারা। বাকি তিনটি সম্পদক পদে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

ডাকসুর ১৩টি সদস্য পদের ১১টিতেও জয়ী হন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সদস্যরা। বাকি দুটির একটিতে জয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী, অন্যটিতে সাত বামপন্থী সংগঠনের প্যানেল প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ডাকসুর বোর্ডে নাম ওঠায় ইসলামী ছাত্রশিবির। নির্বাচনের এই ফল প্রত্যাখ্যান করেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা।

হাতে ব্যালট গণনার সমালোচনা করে সাংবাদিকদের সামনে এসে সহকর্মীর মৃত্যুতে ক্ষোভ জানান অধ্যাপক সুলতানা আক্তার।
হাতে ব্যালট গণনার সমালোচনা করে সাংবাদিকদের সামনে এসে সহকর্মীর মৃত্যুতে ক্ষোভ জানান অধ্যাপক সুলতানা আক্তার।

৭ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সাতটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে; এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে অনেক।

ছাত্রদলের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী করা হয় মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রদলের সভাপতি মো. শেখ সাদী হাসানকে। জিএস প্রার্থী হন ১৩ নম্বর ছাত্রী হল ছাত্রদলের সভাপতি তানজিলা হোসাইন বৈশাখী। ছাত্রদলের প্যানেলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ছিলেন মো. সাজ্জাদুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে আঞ্জুমান আরা ইকরা।

ডাকসুতে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে জয়ী ইসলামী ছাত্রশিবির জাকসুতে লড়ে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে। তাদের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ, জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে লড়েন ফেরদৌস আল হাসান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা।

অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল এনসিপির ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই প্যানেলে ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে জিয়া উদ্দিন আয়ান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে মালিহা নামলাহ লড়েন।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের একাংশসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতি সংগঠন মিলে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা করে। এই প্যানেলে ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায় থাকলেও তিনি লড়াই থেকে বাদ পড়ায় জিএস প্রার্থী হিসেবে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি শরণ এহসান।

১১ জন নারী, ৭ জন আদিবাসী, ৬ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী, ৩ জন বৌদ্ধ ও ২ জন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীকে নিয়ে সাজানো এই প্যানেলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রার্থী নুর এ তামীম স্রোত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’। এই প্যানেলে ভিপি প্রার্থী জিতুর সঙ্গে জিএস প্রার্থী ছিলেন শাকিল আলী। এই প্যানেলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম নিবির ভূঁঞা।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে ‘সংশপ্তক পর্ষদ’ নামে একটি আংশিক প্যানেল দেয়। এই প্যানেলে ভিপি প্রার্থী নেই, জিএস পদে লড়েন জাহিদুল ইসলাম ইমন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে প্রার্থী হন সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের একাংশের মুখপাত্র মাহফুজ ইসলাম মেঘের নেতৃত্বে আট সদস্যের ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ নামে আরেকটি আংশিক প্যানেল ভোটের লড়াইয়ে ছিল। মাহফুজ এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী, জিএস প্রার্থী তানবীর হোসেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে এই প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন নাজমুল ইসলাম।

জাকসু তথ্য

১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর আগে ৯ বার হয়েছে জাকসু নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯২ সালে। সেবার ছাত্রদল জাকসু এবং হল ছাত্র সংসদগুলোতে বিজয়ী হয়েছিল। জাকসুতে ভিপি হয়েছিলেন মাসুদ হাসান তালুকদার, জিএস হয়েছিলেন শামসুল তাবরীজ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিবর্তিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়।

তফসিল ঘোষণার পর গত ১০ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয় ১৯ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর যাচাই-বাছাই, আপত্তি শুনানির পর ২৯ আগস্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১০ দিন প্রচারের সময় দিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করা হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found