Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

আইসিটি আইনের মামলায় অভিযুক্তরা এমপি বা সরকারি চাকরি প্রার্থী হতে পারবেন না

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি : বাসস
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি : বাসস
[publishpress_authors_box]

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার যোগ্যতা হারাবেন। একইভাবে তিনি স্থানীয় সরকার পরিষদ বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক পদে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকারও অযোগ্য হবেন।

বাসস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ সেকশন ২০ (সি) যুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের সেকশন ৯(১)-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকারের কোনও নির্বাচিত পদে প্রার্থী বা বহাল থাকার যোগ্য থাকবেন না।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, এ ধারা অনুসারে ওই ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার কিংবা অন্য কোনও সরকারি অফিসে অধিষ্ঠিত হওয়ারও অযোগ্য হবেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, এই বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলার মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত এ অধ্যাদেশ অনুমোদন পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

অধ্যাদেশটি জারি হলে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সে দিন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের কয়েকজন ধরা পড়েন। অনেকেই বিদেশে বা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

অভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা পড়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ বছর ১০ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আসামিদের মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছেন। তিন আসামির মধ্যে একমাত্র তিনিই কারাগারে আটক আছেন, বাকি দুজনকে পলাতক দেখিয়ে ৪ অগাস্ট হতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found