এবার জমজমাটই হতে যাচ্ছে বিসিবির নির্বাচন। তামিম ইকবাল, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঘোষণা দিয়েছেন পরিচালক পদে নির্বাচনের। জয়ী হলে এই দুজনের কেউ হতে পারেন বিসিবি সভাপতি। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত ২৫ পরিচালকের ভোটে বেছে নেওয়া হয় সভাপতি। সেখানে থাকে নানা সমীকরণ। রাজনীতির জায়গা না থাকলেও চলে আসে রাজনীতি।
এরই অংশ হিসেবে বিএনপির সমর্থন পেতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল। এমন কথাই আজ (বুধবার) খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জানালেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী। তার নিজের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন এই অনুষ্ঠানে।
আলী আসগর লবী ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার উপর চাপ আছে বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেয়ার, কিন্তু আমি বলেছি আমি পারব না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমি। একসঙ্গে দুই জায়গায় কাজ করে সময় দিয়ে পারব না।’’

বিএনপি থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে বলেও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জানান খুলনা-৫ আসন থেকে বিএনপির এই সম্ভাব্য প্রার্থী, ‘‘আমাদের দলের থেকে প্যানেল আসবে, সেখানে তামিম ইকবাল প্রার্থী হবে। ভালো একজন ক্রিকেটার এবং শিক্ষিত ছেলে, সে যদি বিসিবি সভাপতি হয়, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি করতে পারবে।’’
আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘বর্তমানে যারা সরকারে আছে তাদের নাকি ইচ্ছা বুলবুলকে সভাপতি করার। সেটা যদি হয়, তাহলে তো এখানেও পলিটিক্স হয়ে গেল। খেলাধুলায় পলিটিক্স রাখা তো ঠিক হবে না।’’
এদিকে আজ বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচনের কথা জানিয়েছেন সাবেক আরেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তিনি বর্তমানে বিসিবির হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আজ বিসিবিতে নান্নু সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এটা আগে থেকেই চিন্তা করে রেখেছিলাম। সাবেক অধিনায়কদের একটা জায়গা আছে। জানি না কত দূর কী হবে, তবে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই ভাবছি। সবকিছু ঠিক থাকলে অবশ্যই নির্বাচন করব।’’
ক্যাটাগরি-৩ থেকে নির্বাচন করতে পারেন নান্নু। এখানে ভোটার সংখ্যা ৪২ কাউন্সিলর। এত কাউন্সিলর মিলে মাত্র একজন পরিচালক নির্বাচিত করতে পারেন। নান্নুর মতে, এটিই সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি,‘‘সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো ৩-ক্যাটাগরিতে যেখানে সর্বাধিক ভোটার সেখানে পরিচালক নির্বাচিত হতে পারেন মাত্র একজন। অথচ এই শ্রেণিতেই আছেন সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়কেরা। আমার মনে হয়, এ বিধিনিষেধ অন্যায্য।’’



