এই ব্যাটিং প্রস্তুতি নিয়ে হাহাকার ছিল গত দুই ম্যাচে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেই সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশ দলের সামনে। কিন্তু বৃষ্টির বাধায় তা পণ্ড হয়ে গেল। বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল সিরিজের শেষ ম্যাচ।
ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংসে ১৮.২ ওভারে তৃতীয়বারের মতো বৃষ্টি শুরু হয়। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ১৬৪। শেষ দুই ওভারের মধ্যে ১০ বলে দলকে কতটা এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল দলে ফেরা নুরুল হাসান সোহানের। দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরে ১১ বলে ২ ছক্কায় ২২ রান করেছেন সোহান। জাকের আলি একটি ছক্কা ও চারে অপরাজিত ছিলেন ১৩ বলে ২০ রানে।
শেষ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজ ২-০ তে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ সেরা হয়েছেন সর্বোচ্চ রান করা লিটন দাস।
সেঞ্চুরির সুযোগ হারালেন লিটন
টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা স্কোর থেকে খুব বেশি দূরে ছিলেন না লিটন দাস। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৩ ওভার শেষে ৪২ বলে ৭১ রান ছিল তার। লিটনের ইনিংসেই ২ উইকেটে ১১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
এই ইনিংস বড় করে সেঞ্চুরির দিকে নেওয়ার সুযোগ ছিল। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিকে টি-টোয়েন্টি শতক পেতেন। কিন্তু থামলেন এর আগেই। ৪৬ বলে ৭৩ রান করে লং অফে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
টি-টোয়েন্টিতে লিটনের আগের তিন সর্বোচ্চ রানের ইনিংস যথাক্রমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৩, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৬ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৩ রান। ডাচদের সঙ্গে আজ সব ইনিংসকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। বড় শট খেলতে গিয়ে হেলায় হারালেন।
লিটনের বিদায়ের পর একই ওভারে শামীমকেও হারিয়েছে বাংলাদেশের। ১৮ বলে ২১ রান করা শামীমের ফ্লিক করতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ আউট হন।
বৃষ্টি থামিয়ে দিল রানের গতি
ফ্লাডলাইট জটিলতা এরপর বৃষ্টি, ৪.১ ওভার পর্যন্ত রানের যে গতি ছিল তা থামিয়ে দিল এই দুটি বিরতি। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে তাই খুব বেশি রান আর হলো না। ৪.১ ওভারে ৬০ রান ছিল বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে। ৬ ওভার শেষে সেই রান দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭। উইকেট অবশ্য হারায়নি। আগের মতো লিটন-হৃদয় জুটিই টিকে আছে। লিটন ২২ রানে ৪৫ ও হৃদয় ১০ বলে ৭ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশের ব্যাটিং দাপটে বৃষ্টির বাধা
সিরিজে প্রথমবার আগে ব্যাটিং করার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশ দলের। ব্যাটাররা শুরু থেকে বেশ ভালো করছিলেন। লিটন দাস নিজেকে ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে এনে পূর্বের ছন্দ দেখাচ্ছিলেন। মাত্র ৪.১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬০ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
ব্যাটিং সামর্থ্য দেখানোর এমন সুযোগে আক্ষরিক অর্থে পানি পড়ল। বৃষ্টিতে খেলা থেমে আছে এখনও। শুরুতে হালকা বৃষ্টি হলেও সিলেটে বৃষ্টির মাত্রা বেড়েছে। এর আগে ১৫ বলে চারটি ৪ ও দুটি ছক্কায় ৩৮ রানে অপরাজিত আছেন লিটন। ৩ রানে ব্যাট করছেন তাওহিদ হৃদয়। ৮ বলে দুই চারে ১২ রান করে ফিরেছেন এই ম্যাচে লিটনের সঙ্গে ওপেন করতে নামা সাইফ হাসান।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন
আগের দুই ম্যাচে টস জিতেও আগে বোলিং নেওয়ায় সমালোচনা হয়েছে বাংলাদেশ দলের। সিরিজের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিং নিতেই হতো। বিপক্ষের সুবাদে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নেদারল্যান্ডস টস জিতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশকে।
লিটন দাসসহ টিম ম্যানেজমেন্টের বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ক্রিকেটপ্রেমীরা। সিলেটের ভালো উইকেটে লিটনদের ব্যাটিং দেখতে চেয়েছিল সবাই। সেই সুযোগটা হচ্ছে তৃতীয় ম্যাচে।
ব্যাটিং অনুশীলনে লিটনদের জন্যও সুবিধা ছিল। এশিয়া কাপের আগে ব্যাটিং লাইনের শক্তি দুর্বলতা দেখা হয়ে যেতো। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও সিরিজ হারের ভয়ে সেই পথে হাঁটতে চায়নি বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। আগে ব্যাটিং করলে নিজেদের কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে, তাই আগে বোলিং করে নিরাপদ পথটি বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
শেষ ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ। একাদশে এসেছে ৪ পরিবর্তন। নিয়মিত দুই ওপেনার তানজিদ তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্রামে। তাদের পরিবর্তে নুরুল হাসান সোহান, শামীম পাটওয়ারী, সাইফ উদ্দিন ও তানজিম সাকিব একাদশে সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ দল : লিটন দাস (অধিনায়ক), মো: সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলি, শামীম হোসেন, রিশাদ হোসেন, সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, তানজিম সাকিব।
নেদারল্যান্ডস দল : ম্যাক্স ও’দাউদ, বিক্রমজিৎ সিং, তেজা নিদামানুরু, স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), শারিজ আহমেদ, নোয়াহ ক্রস, কাইল ক্লিন, টিম প্রিঙ্গল, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মিকেরেন, দানিয়েল দোরাম।



