গত দুইদিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী সংখ্যা চারশর কম। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ৩৬৭ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৬৭ জন। আগেরদিন শুক্রবার ছিল ১৬৫ জন আর বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছিল ৪৩২ জন। তার আগে গত বুধবার ভর্তি হয়েছিল ৪৩০ জন আর মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছিল ৪৭০ জন।
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে টানা তিনদিন ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিন পার করল দেশ।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ হাসপাতালে ভর্তি ৩৬৭ জনকে নিয়ে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হলো ৯ হাজার ৯২৮ জন। আর চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগী সংখ্যা সরকারি হিসেবে ৩০ হাজার ৯০৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৬৭ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে; ১০৮ জন। বাকিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জন আর রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ জন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে জুলাই মাসে, ১০ হাজার ৬৮৪ জন। এছাড়া জুন মাসে ৫ হাজার ৯৫১ জন, জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন
গত তিনদিন ধরে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তাতে করে আগের হিসাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের; আর চলতি বছরে ১১৮ জনের। তাদের মধ্যে ৬৭ জন পুরুষ; ৫১ জন নারী।
এ বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি, ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে জুলাই মাসে। আগস্টের ২৫ দিনে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া জুন মাসে ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন জন, এপ্রিলে সাত জন, মে মাসে তিন জন মারা যায়। মার্চ মাসে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি।
২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গুর তথ্য রাখতে শুরু করে সরকার। সে বছরে রোগী ছিল ৫ হাজার ৫৫১ জন। এই রোগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ মৃত্যুও দেখে বাংলাদেশ।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন; তার মধ্যে মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

