Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

নুরের ওপর হামলায় নিন্দা, বিক্ষোভ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুর। ছবি : গণ অধিকার পরিষদের ফেইসবুক পেইজ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুর। ছবি : গণ অধিকার পরিষদের ফেইসবুক পেইজ।
[publishpress_authors_box]

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল; নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রাজধানীর কাকরাইলে শুক্রবার সন্ধ্যার ওই ঘটনার পর রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নুরের দলের নেতাকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে গণ অধিকার পরিষদের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন নুরসহ গণ অধিকার পরিষদের আহত পাঁচজন। নুরের চিকিৎসায় শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। তার নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অনেক রক্তক্ষরণ হয়। তার জ্ঞান ফিরেছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত কিনা তা ৪৮ ঘণ্টার আগে বলা সম্ভব নয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রথম আলো জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত নুরুল হকসহ ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। তবে জাপা বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে জাপার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুর। ছবি : গণ অধিকার পরিষদের ফেইসবুক পেইজ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুর। ছবি : গণ অধিকার পরিষদের ফেইসবুক পেইজ।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, জাপার হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে সভাপতি নুরুল হক, তিনিসহ নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় সভাপতি নুরুল হক নুর, তিনিসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। নুরুল হক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকেসহ ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, নুরসহ আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাতে নুরকে দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান আর তেড়ে আসা নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে আসিফ নজরুল অনেকটা লুকিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, “উপদেষ্টা স্যার হাসপাতালে আসার পর কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর তিনি বাগান গেইট দিয়ে বের হয়ে যান।”

প্রথম আলো জানিয়েছে, রাজধানীর কাকরাইলে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করার প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এছাড়া রাজশাহীতে জাপার জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

জ্ঞান ফিরেছে নুরের

যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে।

শনিবার সকাল ৭টায় নুরের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়, “নুরুল হক নূরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নুরের চিকিৎসায় শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, “নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে; যে কারণে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তার রক্তক্ষরণ আগেই বন্ধ হয়েছে ও জ্ঞান ফিরেছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে নুরুল হক আশঙ্কামুক্ত সেটি বলা সম্ভব নয়।”

বল প্রয়োগে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : আইএসপিআর

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

‘কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে’ শিরোনামে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আজ রাত আনুমানিক ৮টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

“প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য ও দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার অনুরোধ জানায়। তবে বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও কতিপয় নেতাকর্মীরা তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে।

“তারা সংগঠিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়। এছাড়াও বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।”

শুক্রবারের উদ্ভূত ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।”

সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ছবি: সংগৃহীত

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের নিন্দা

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ঘটনার আইনি তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে আহত নুরের একটি ছবি দিয়ে এই আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান তার পোস্টে বলেন, “বিএনপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক অত্যন্ত নাজুক সময়ের মধ্যে আছি। যার প্রথম পদক্ষেপ হলো জাতীয় নির্বাচন। সম্মিলিতভাবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আজকের ঘটনার মতো অস্থিতিশীল ঘটনাগুলো যেন আর না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রপন্থী অংশীজনরা, যার মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররাও রয়েছে, তাদের অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে।

তিনি দেশকে অবশ্যই বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের এই মব ভায়োলেন্সের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত। কেবল গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হতে পারি।”

নুরের ওপর সংঘটিত ঘটনার আইনি তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

মির্জা ফখরুলের নিন্দা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নুরসহ গণ অধিকার পরিষদের অনেক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বিএনপি সকলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চাকে ব্যাহত করে এমন কোন কর্মকাণ্ডকে বিএনপি সমর্থন করে না এবং সুস্থ ধারার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলাকে আমরা নিন্দা জানাই।”

বিবৃতিতে নুরের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন মির্জা ফখরুল।

জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

বাসস জানিয়েছে, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শুক্রবার এক বিবৃতি তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর এই হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, শন্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করি।

“জাতি যখন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের হামলা ফ্যাসিবাদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।”

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রেস সচিবের নিন্দা

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের সময়ের সাহসী কণ্ঠস্বর গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের ওপর বর্বরোচিত এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রনেতা হিসেবে নুর ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি এক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন”

শফিকুল আলম বলেন, সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নুর ও তার সংগঠন জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারা গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও মর্যাদার জন্য চলমান লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নুরকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল। এটি শুধু কেবল মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন ছিল না, বরং এটি ছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের হাতে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ওপর সরাসরি আঘাত।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত, কর্তৃপক্ষ এই হামলার তদন্ত করবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত