Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

পুতিনের ফাঁদ দেখছেন ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক

kallas
[publishpress_authors_box]

ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে ভূমি ছাড়তে বাধ্য করা উচিৎ হবে না বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক শীর্ষ কূটনীতিক।

সম্প্রতি ইইউ নেতারা যখন হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে মাঝখানে বসিয়ে শান্তি আলোচনা করছিলেন, তখন কাজা কাল্লাস নামের ওই কূটনীতিক বিবিসি টুডেকে এক সাক্ষাৎকার দেন।

সেখানে তিনি বলেন, “রাশিয়াকে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ধরে রাখতে দেওয়া হলো ‘একটি ফাঁদ’। আর সেই ফাঁদের দিকে পুতিন আমাদেরকে নিয়ে যেতে চাইছেন।”

পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল বহুদিন ধরেই রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু। সামরিক আগ্রাসনের ফলে গত এক দশকে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৫ লাখ ইউক্রেনীয় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ডনবাসকে মস্কোর হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে শান্তির প্রস্তাব বহুবার প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। আর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে “ভূমি বিনিময়ের” প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

ক্রেমলিনের ‘ওয়ান্টেড লিস্টে’ থাকা কাল্লাস ইউক্রেনের জন্য “বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী” নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন।

তিনি স্বীকার করেন, এই মুহূর্তে প্রতিরোধী শক্তি গড়ে তোলার জন্য খুব বেশি “সুগঠিত পদক্ষেপ” আলোচনায় নেই।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হলো শক্তিশালী ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী”। আর এটি কেবল কাগজে-কলমে নয়, সঠিকভাবে কার্যকর হতে হবে বলেও তিনি জানান।

এক্ষেত্রে কাল্লাস বলেন, “ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে ইচ্ছুক ইইউ জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নির্ধারণ করতে হবে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কী অবদান রাখতে পারে। এখনও স্পষ্ট নয়, সেই বাহিনী কীভাবে কাজ করবে।”

গত সপ্তাহে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ফিনল্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ইইউ দেশগুলোর নেতারা ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। এর কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প আলাস্কার একটি সামরিক ঘাঁটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আতিথ্য দিয়েছিলেন।

আলাস্কা সম্মেলন নিয়ে কাল্লাস বলেন, পুতিন “তার যা চাই সবই পেয়েছেন”। আর এটি শান্তি আলোচনার প্রতি তার আগ্রহকে প্রভাবিত করবে।

তিনি বলেন, “ওই বৈঠকে তাকে যে ধরনের অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে, তাই তার চাওয়া ছিল। আর তিনি চেয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞা যেন কার্যকর না হয়, সেটিও তিনি পেয়েছেন। পুতিন আসলে হাসছেন, হত্যা থামাচ্ছেন না বরং বাড়াচ্ছেন। আমরা ভুলে যাচ্ছি যে রাশিয়া একটিও ছাড় দেয়নি।”

তিনি আরও জানান, রুশ প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইইউ ১৯তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ প্রণয়ন করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা মূল্যায়নের জন্য তিনি দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।

ডানপন্থী গণমাধ্যম নিউজম্যাক্সের সঞ্চালক টড স্টার্নসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা জানতে পারব, হ্যাঁ বা না। এর পর হয়তো আমাদের ভিন্ন কৌশল নিতে হবে।”

কিন্তু পুতিন বৈঠকে বসবেন কি না, এনিয়ে জেলেনস্কি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া দুই দেশের নেতাদের মধ্যে বৈঠকের “প্রয়োজনীয়তা” এড়িয়ে যাচ্ছে। “রাশিয়ার বর্তমান বার্তাগুলো, সৎভাবে বললে অশোভন। তারা বৈঠক এড়াতে চাইছে। তারা এই যুদ্ধ শেষ করতে চায় না।”

তিনি পশ্চিমা মিত্রদেরও চাপ দিয়ে বলেন, ইউক্রেন আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে “নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা” চায়। “আমাদের জানতে হবে, নির্দিষ্ট মুহূর্তে কোন দেশ কী ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”

জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার ভোরে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাশিয়া এমনভাবে আচরণ করছে যেন যুদ্ধ থামাতে বৈশ্বিক কোনও প্রচেষ্টা নেই।

ওই দিনই ইউক্রেনের অন্তত ১১টি স্থানে হামলা হয়। পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে অন্তত একজন নিহত ও এক ডজনের বেশি আহত হন।

ইউরোপের কয়েকজন নেতা আগে থেকেই ইইউ ও ইউক্রেনের অবস্থানের প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, পুতিন শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেন, পুতিনকে “কদাচিৎ বিশ্বাস করা যায়”। তিনি সন্দিহান পুতিন শেষ পর্যন্ত জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাজি হবেন কি না।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রুশ নেতাকে “একজন শিকারী, এবং আমাদের দোরগোড়ায় এক দৈত্য” আখ্যা দেন। পাশাপাশি পুতিন শান্তির পথে হাঁটতে রাজি হবেন কি না এনিয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি “যেকোনো ফরম্যাটে” পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত। কিন্তু বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, এখনও মস্কোর পক্ষ থেকে কোনও ইঙ্গিত নেই যে তারা “বাস্তব আলোচনায় অংশ নিতে আন্তরিকভাবে প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found