Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সেই সুখরঞ্জন বালির অভিযোগ দাখিল

sukhranjan
[publishpress_authors_box]

জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার আলোচিত সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

২১ আগস্ট সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ দাখিল করে তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান বলে জানিয়েছে বাসস।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে গিয়ে এক যুগ আগে ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে নিখোঁজ হন তিনি।

অভিযোগে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভাই বিশেশ্বর বালিকে হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ২০১০ সালে পিরোজপুরের পাড়েরহাটে তাকে ডেকে নিয়ে চরম নির্যাতনের মুখে ট্রাইবুনালে গিয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বলেন। ভাইয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের সঙ্গে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম বলতে তাকে চাপ দেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও। সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় দেওয়া হয় হত্যার হুমকি।

তাদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে সুখরঞ্জন বালি আত্মগোপনে চলে যান বলে জানান। অভিযোগে তিনি বলেন, “এরপর একদিন সাঈদী হুজুরের ছেলে মাসুদ সাঈদী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সত্য ঘটনা জানতে চান এবং আমাকে তা তুলে ধরার অনুরোধ করেন। আমি সাঈদী হুজুরের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে রাজি হই।”

২০১২ সালের ৫ নভেম্বর অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম সুখরঞ্জন বালিকে তার গাড়িতে করে ট্রাইব্যুনালের দিকে রওয়ানা দেন। ট্রাইব্যুনালের মূল গেটের কাছে গাড়ি এসে পৌঁছালে পুলিশ তা আটকে দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, “কিছু বুঝে উঠার আগেই সাদা পোশাকে থাকা অনেক লোক ও পুলিশ মিলে মিজান স্যারের গাড়ি ঘিরে ফেলে। আমাকে মারতে মারতে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে একটা সাদা রঙের পুলিশ পিকআপে তুলে নেয়।” 

সেখান থেকে বিজিবির সহায়তায় সুখরঞ্জন বালিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার স্বরূপনগর থানার অন্তর্গত বৈকারি বাজার সীমান্তে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুখরঞ্জন তার অভিযোগে বলেন, “তারা আমাকে বশিরহাট সাবজেলে পাঠায়। সেখানে ২২ দিন রাখার পর দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় এবং সেখানে আমাকে মোট ৫ বছর আটক রাখে।”

দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে তার আটক থাকার বিষয়ে জানতে পেরে মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্থা ও ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কারাগার থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হন বলে জানান সুখরঞ্জন।

তিনি বলেন, “দেশে ফিরে এলেও নিরাপত্তার কারণে পিরোজপুরে নিজ গ্রামে যেতে পারিনি, বরং আত্মগোপনে নিজ জেলার বাইরে অবস্থান করি।”

সুখরঞ্জনের দাবি, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো।

শেখ হাসিনার ছাড়াও সুখরঞ্জন বালি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, ট্রাইব্যুনালের সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, সাবেক প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত ও তৎকালীন তদন্ত সংস্থার প্রধান মো. সানাউল হক।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found