বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভারতের কলকাতায় অফিস নিয়ে কার্যক্রম চালানোর খবর পেয়ে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তার জবাবে নয়া দিল্লি বলেছে, এমন কিছু তাদের গোচরে নেই।
কলকাতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর খবর বিবিসি বাংলা প্রকাশের এক সপ্তাহ পর তা বন্ধ করতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বুধবার বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এবিষয়ে নয়া দিল্লিতে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার এক্স হ্যান্ডেলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
সেখানে বলা হয়, ভারতে বাংলাদেশবিরোধী কোনও কার্যক্রম সম্পর্কে ভারত সরকার ওয়াকিবহাল নয়।
“ভারতের আইনের পরিপন্থী ‘কথিত আওয়ামী লীগের সদস্য বা অন্য কারও কোনও কার্যক্রম’ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে ভারতের সরকার অবগত নয়। ভারতের মাটিতে অন্য দেশের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের কর্মকাণ্ড ভারত সরকার অনুমোদন করে না।”
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বিষয়টি ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জয়সওয়াল।
সেই সঙ্গে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন তিনি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে। তিনি এখনও সেখানেই রয়েছেন। পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ভারতে শেখ হাসিনা আশ্রয় পাওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কে যে টানাপড়েন দেখা দেয়, তা এখনও চলছে।
এর মধ্যেই চলতি আগস্ট মাসের শুরুতে বিবিসি বাংলা ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অফিস খোলার খবর দেয় । তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কলকাতার উপকণ্ঠে একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে দপ্তর খুলেছেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। সেখানে নিয়মিত বসছেন তারা।
সেই খবর দেখার পর ভারতে আওয়ামী লীগের অফিস বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি আসে।
সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত জুলাইয়ে একটি ভুঁইফোড় এনজিওর কার্যক্রমের আড়ালে আওয়ামী লীগের নেতারা দিল্লি প্রেস ক্লাবেও অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগের নেতারা ভারত থেকে বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছেন অভিযোগ করে তা বন্ধ করতে নয়া দিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সেই সঙ্গে বলা হয়, এই ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির জন্যও হুমকিস্বরূপ হতে পারে। ফলে তা বাংলাদেশে জনরোষ তৈরি করতে পারে।



