বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে নাজেহাল হওয়ার পর গ্রেপ্তার রিকশাচালক আজিজুর রহমান আদালত থেকে পেয়েছেন জামিন; অন্যদিকে ধানমণ্ডি থানার ওসির কাছে তাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চেয়েছে সরকার।
গত ১৫ আগস্ট শুক্রবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ভবনে ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের হাতে নাজেহাল হন আজিজুর। মারধরের শিকার হয়ে সেই ফুল রেখেই ফিরতে হয়েছিল তাকে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ছয় মাস পর গত ফেব্রুয়ারিতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের শাসনকালে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি তালিকা থেকে দিবসটি বাতিল হয়।
আওয়ামী লীগের ছন্নছাড়া অবস্থার মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুই-একজন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আজিজুরের মতোই নাজেহাল হন।
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আজিজুরকে পরে পুলিশ আটক করে। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে শনিবার পাঠানো হয় ঢাকার আদালতে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নিউ মার্কেট থেকে সাইন্সল্যাবের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আরিফুল ইসলাম নামে একজনের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় আজিজুরকে। গত ২ এপ্রিল ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের হয়।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান আসামি আজিজুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। তাতে সাড়া দিয়ে শনিবার আজিজুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত।
এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে রবিবার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ আজহারুল ইসলাম আসামি আজিজুরকে জামিনের আদেশ দেন।
শুনানির সময় আজিজুরের স্ত্রী তাদের ১০ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জামিনের আদেশে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
৩২ নম্বরে শুক্রবার পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে ধানমণ্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের একটি ‘নির্দেশনা’র কথা বলেছিলেন।
শফিকুল আলম সম্প্রতি বলেছিলেন, “১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এটি দুঃখজনক। তবে এ দিনটি আগস্টের অন্য ৩১ দিনের মতোই। কেউ ধানমণ্ডিতে বা কোথাও কর্মসূচি করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি ক্যশৈন্যু মারমা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আপনারা হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন, কিছুদিন আগে আমাদের যে প্রেস সচিব, তিনি কিছু ইন্সট্রাকশন্স দিয়েছিলেন। সেই ইন্সট্রাকশন্স মোতাবেক আমরা কাজ করব।”
তবে আজিজুরকে গ্রেপ্তার নিয়ে রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বিবৃতি এসেছে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে, েযখানে উল্টো ওসির কাছে তার পদক্ষেপের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ থেকে আটক রিকশাচালক জনাব মো. আজিজুর রহমানকে কীসের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
“একই সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।”
যে মামলায় আজিজুরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, তাতে তার সম্পৃক্ততা তদন্ত করে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।



