২০০০ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ভ্লাদিমির পুতিন; তার কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বিল ক্লিনটনকে। ক্লিনটন তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
তারপর হোয়াইট হাউস ঘুরে গেছেন তিনজন প্রেসিডেন্ট; ডোনাল্ড ট্রাম্প একবার থেকে চার বছর বাদে আবার ফিরেও এসেছেন।
কিন্তু পুতিন রাশিয়ায় দণ্ডমুণ্ডের কর্তা থেকেই গেছেন। কিছুকাল প্রেসিডেন্ট, তারপর প্রধানমন্ত্রী, তারপর আবার প্রেসিডেন্ট। পদ বদলালেও তার ক্ষমতার নড়চড় হয়নি একটুও।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার পর শুক্রবার প্রথম সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পুতিনের সঙ্গে। এই বৈঠক হবে আলাস্কা রাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে কৌতূহলী চোখ থাকছে গোটা বিশ্বের; কেননা এই বৈঠক থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হতে পারে।
বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের সঙ্গে এই বৈঠকে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তার আগের ৪৬টি বৈঠকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন।
রাশিয়ার নেতা হিসাবে গত দুই যুগের বেশি সময়ে বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পাঁচজন প্রেসিডেন্টের দেখা পেয়েছেন পুতিন। তারা হলেন- বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ (জুনিয়র বুশ), বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন।
স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর পুতিনের এই বৈঠকগুলোর মধ্যে প্রথম দিকেরগুলো বেশ উষ্ণ ও হৃদত্যপূর্ণ ছিল। আলোচনার ফাঁকে জ্যাজ কনসার্ট কিংবা মাছ শিকারও হয়ে উঠেছিল বৈঠকের উপাদান। কিন্তু দিন যতই এগিয়েছে, সেই বৈঠকের আবহও তত শীতলতায় গড়িয়েছে।
ওবামা ও বাইডেনের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকগুলো ছিল বেশ শীতল। এরপর ইউক্রেন যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়ার পর তো যুক্তরাষ্ট্রের নানা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রয়েছেন পুতিন। পুতিনকে নিয়ে ট্রাম্প বরাবর উচ্ছ্বসিত হলেও সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্টের ওপর বেশ বিরক্ত তিনিও।
জুন ২০০০: পুতিন-ক্লিনটন
আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকে মস্কোতে আতিথ্য দেন। ক্লিনটনকে ক্রেমলিন ঘুরিয়ে দেখান তিনি, সেখানে একটি রুশ জ্যাজ দলের পরিবেশনাও দেখেন তারা।
রাশিয়া দুটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি অনুমোদন করায় পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ক্লিনটন; বলেছিলেন, “প্রেসিডেন্ট বোরিস ইয়েলৎসিন রাশিয়াকে স্বাধীনতার দিকে পরিচালিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনের অধীনে রাশিয়ার সেই স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন রক্ষা করার সাথে সাথে সমৃদ্ধি এবং শক্তিমান হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।”

পুতিন তখন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্যতম প্রধান অংশীদার’ হিসাবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, “মস্কো আর কখনোই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত চাইবে না। কখনই না। আমরা সহযোগিতার পক্ষে।”
কিন্তু ক্লিনটন চেচনিয়া নিয়ে তাদের মতপার্থক্যের কথা স্বীকার করেন। ১৯৯৯ সালে রুশ বাহিনী বড় অভিযান চালিয়েছিল চেচনিয়ায়, মস্কোয় বিস্ফোরণের জন্য চেচেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করে।
মস্কোর বৈঠকটি পুতিন ও ক্লিনটনের মধ্যে চারটি বৈঠকের মধ্যে প্রথম ছিল। এরপর বহুপাক্ষিক নানা সম্মেলনে তাদের অন্য তিনটি বৈঠক হয়। ২০০১ সালের জানুয়ারিতে ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার মেয়াদ শেষ করেন।
নভেম্বর ২০০১: পুতিন-বুশ
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর পুতিন ছিলেন প্রথম বিশ্বনেতা, যিনি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে ফোন করে সমর্থন দিয়েছিলেন।
দুই মাস পর বুশ তার টেক্সাসের খামারে আতিথ্য দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে। সেখানে তাদের বৈঠকে ছিল উষ্ণতার পরশ।
বুশ তখন বলেন, “আমি যখন হাই স্কুলে ছিলাম, রাশিয়া ছিল শত্রু। এখন হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাশিয়াকে বন্ধু হিসেবে জানতে পারে। আমরা পুরনো সম্পর্ক ভাঙার জন্য একসাথে কাজ করছি। সহযোগিতা এবং বিশ্বাসের একটি নতুন মনোভাব প্রতিষ্ঠা করছি, যাতে আমরা বিশ্বকে আরও শান্তিপূর্ণ করতে একসাথে কাজ করতে পারি।”
পুতিনকে একটি পিক-আপ ট্রাকে করে খামারের একটি জলপ্রপাতের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন বুশ।
কিন্তু ২০০২ সালের নভেম্বরে যখন তারা রাশিয়ায় মিলিত হন, তখন তাতে ছায়া ফেলেছিল ন্যাটোর সম্প্রসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা।
জুলাই ২০০৭: পুতিন-বুশ
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পুতিনের সঙ্গে একটি উষ্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বুশ।

ওই বছরই মাইনেতে পারিবারিক বাড়িতে পুতিনকে আতিথ্য দিয়েছিলেন বুশ। উভয়েই তখন স্বীকার করেন যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও কিন্তু তারা প্রত্যেকেই একে অপরের স্বচ্ছতার প্রশংসা করেন।
সেবার পুতিনকে নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন বুশ। পুতিন বলেছিলেন, সেই ভ্রমণে তিনি একটি মাছ ধরতে সফলও হয়েছিলেন, তবে পরে সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এপ্রিল ২০০৮: পুতিন-বুশ
বুশ ও পুতিনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শেষ বৈঠকটি হয়েছিল রাশিয়ার সোচিতে। ইউরোপে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে হয়েছিল এই বৈঠক হয়েছিল, যার বিরোধিতা করছিল রাশিয়া।
দুজনের বৈঠকে সঙ্কট মোচনে কোনও অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অক্ষত ছিল।
বুশ মোট ২৮ বার পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে এর চেয়ে বেশিবার দেখা করেছিলেন কেবল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে।
জুলাই ২০০৯: পুতিন-ওবামা
পুতিন তখন পদ পাল্টে প্রধানমন্ত্রী। দিমিত্রি মেদভেদেভ তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেও ক্ষমতা ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা মস্কো সফরে বৈঠক করেন পুতিনের সঙ্গে। তার আগের বছর রাশিয়া জর্জিয়ায় আক্রমণের কারণে মস্কো-ওয়াশিংটন দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল।
ওবামা সেবার পুতিনকে বলেছিলেন, “আমরা হয়তো সবকিছুতে একমত হব না, তবে আমি মনে করি যে আমরা পারস্পরিক সম্মান এবং আলোচনার একটি সুর বজায় রাখতে পারি, যাতে আমেরিকান জনগণ এবং রুশ জনগণের উভয়ের জন্যই ভালো হয়।”
জুন ২০১৩: পুতিন-ওবামা
উত্তর আয়ারল্যান্ডে জি এইট শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ওবামা। রাশিয়াকে ১৯৯৮ সালে এই গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়াকে বহিষ্কার করা হয় গ্রুপটি থেকে।

ওবামার সঙ্গে পুতিনের ওই বৈঠকে ছায়া ফেলেছিল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাছাড়া করতে চেয়েছিল, কিন্তু রাশিয়া তাকে সমর্থন করছিল।
ওবামা বলেছিলেন, “সিরিয়ার বিষয়ে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, কিন্তু আমরা সহিংসতা হ্রাস করা; রাসায়নিক অস্ত্র সুরক্ষিত করা এবং তার ব্যবহার বিস্তৃত না করার বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহ প্রকাশ করি।”
নভেম্বর ২০১৬: পুতিন-ওবামা
পেরুতে এপেক শীর্ষ সম্মেলনে ওবামা ও পুতিনের নবম বৈঠকটিতে সৌহার্দ্যের কোনও উপস্থিতি ছিল না। সেটাই ছিল তাদের শেষ বৈঠক।
সেই বৈঠকের আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে উৎখাতে ষড়যন্ত্রে ওয়াশিংটন জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছিল মস্কো। অন্যদিকে ক্রিমিয়া দখল করায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পুতিন ও ওবামা শীর্ষ সম্মেলনের একপাশে মাত্র চার মিনিট কথা বলেন। সেখানে তিনি তার রুশ প্রতিপক্ষকে মিনস্ক চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানান।
জুলাই ২০১৮: পুতিন-ট্রাম্প
২০১৬ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় থেকেই অভিযোগ ছিল, ভোটে তার জয়ী হওয়ার পেছনে রাশিয়ার হাত ছিল। শপথ নেওয়ার দেড় বছর পর হেলসিঙ্কিতে পুতিনের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন ট্রাম্প।
দুজনে একান্তে বৈঠকেও মিলিত হয়েছিলেন সেবার। তারপর সাংবাদিকদের সামনে এসে পুতিন বলেছিলেন, স্নায়ু যুদ্ধ অতীতের বিষয়।
পরিবেশগত সঙ্কট থেকে সন্ত্রাসবাদ, আধুনিক বিশ্ব যে চ্যালেঞ্জগুলোর সামনে, সেগুলো একত্রে মোকাবেলার কথা বলেন তিনি। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ঘাটতি হবে না বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

বিপরীতে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে তার ভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি।
তখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিশ্বাস করেন কি না, যারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে মস্কো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল।
ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমার গোয়েন্দা লোকদের প্রতি আমার অনেক আস্থা আছে, কিন্তু আমি আপনাকে বলব যে প্রেসিডেন্ট পুতিন আজ অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমিও বলব, এমন হওয়ার কোনও কারণ আমি দেখছি না।”
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মোট ছয়বার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জুন ২০২১: পুতিন-বাইডেন
জো বাইডেন চার বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের একবারই বৈঠক করেন পুতিনের সঙ্গে, তা হয়েছিল জেনেভায়।
কয়েক বছর ধরে সম্পর্কের ক্রমাববনতির পর বাইডেন ২০২১ সালের মার্চ মাসে পুতিনকে একজন খুনি আখ্যায়িত করার পর মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। তখন রাশিয়া ওয়াশিংটন থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রও নিয়েছিল একই পদক্ষেপ।
জেনেভার বৈঠকটি সম্পর্ককে কিছুটা হলেও নতুন করে সাজাতে সাহায্য করেছিল। উভয় দেশ রাষ্ট্রদূতদের পুনরায় নিয়োগ করতে সম্মত হয়।
কিন্তু বাইডেন রুশ নির্বাচন হস্তক্ষেপ এবং সাইবার আক্রমণ নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে অকপট ছিলেন। তিনি কার্যত মস্কোকে হুমকি দিয়েছিলেন এই বলে যে ওয়াশিংটনও পাল্টা সাইবার আক্রমণ চালাতে পারে।

সেই সময়ের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তে তার সেনা উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের একটি মূল চাপের উৎস ছিল। পুতিন-বাইডেন বৈঠকেও তা উঠে আসে।
তার আট মাস পর রাশিয়া সরাসরি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে, যার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম যুদ্ধের সূচনা হয়।
ট্রাম্প আলাস্কার শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে এই যুদ্ধই শেষ করতে চাইছেন।
আলাস্কায় যা হচ্ছে
ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে ট্রাম্প ও পুতিন শুক্রবার আলাঙ্কার অ্যাঙ্কোরেজে শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন। বৈঠকের স্থান নির্ধারিত হয়েছে এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন, যা রাজ্যটির সবচেয়ে জনবহুল শহরের উত্তরাংশে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই বিশ্বনেতাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য নিরাপত্তার সব বন্দোবস্তু করা হয়েছে।
বৈঠকস্থল হিসাবে এই ঘাঁটি নির্ধারণের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন পর্যটনের মৌসুমে তাড়াহুড়ো করে আয়োজিত এই বৈঠকের জন্য অন্য কোনও উপযুক্ত বিকল্প ছিল না।
৬৪ হাজার একরজুড়ে স্থাপিত এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি।
বরফে ঢাকা পাহাড় ও হ্রদ ঘেরা এই ঘাঁটিতে শীতকালে তাপমাত্রা নিয়মিতভাবে হিমাঙ্কের নিচে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। তবে শুক্রবার তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
১৯৪০ সালে নির্মিত এই ঘাঁটিটি স্নায়ু যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকি প্রতিরোধের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৯ সালে ট্রাম্প ঘাঁটিটি পরিদর্শনের সময় বলেছিলেন, সেখানকার সৈন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সীমান্তে প্রথম প্রতিরক্ষামূলক লাইন হিসাবে কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কিনেছিল। ১৯৫৯ সালে এটি রাজ্যের মর্যাদা পায়। তবে রাশিয়ার অনেকে এখনও আলাস্কাকে নিজেদের মনে করেন। তারা বলেন, এটা বিক্রির সময় তাদের ঠকানো হয়েছিল।

ট্রাম্প এবার নির্বাচনী প্রচারের সময় বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করে দেবেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার সাত মাসেও শেষ হয়নি এই যুদ্ধ। এক সময় রুশ প্রেসিডেন্টকে প্রশংসায় ভাসালেও এখন তাকে নিয়ে হতাশার কথাও ট্রাম্পের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বুধবার মস্কোতে পুতিনের ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনার পরই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।
ইউক্রেনকে দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব উইটকফ পেয়েছেন বলে খবর চাউর হয়েছে। তবে ইউক্রেন এর বিরোধিতা করছে, আর হোয়াইট হাউস থেকেও এমন কিছু নিশ্চিত করেনি।
ইউক্রেনকে নিয়ে আলোচনা হলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বৈঠকে নেই। তবে
ট্রাম্প বলেছেন যে বৈঠকের পর তিনি প্রথম যাকে ফোন করবেন, তিনি হলেন জেলেনস্কি।
ট্রাম্পের অনুরোধে এই গ্রীষ্মে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা আলোচনা হলেও তা দুই পক্ষকে শান্তির কাছাকাছি আনতে পারেনি।
তথ্যসূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি



