ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক বছর পর এল জুলাই ঘোষণাপত্র; সেই সঙ্গে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাও দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বড় আয়োজনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করার পর রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচনের সময় জানান তিনি।
তার দুই ঘোষণার চুলচেরা বিশ্লেষণের পর বুধবার বিভিন্ন দল সংবাদ সম্মেলন করে নিজ নিজ পক্ষের প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিএনপি ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের সময় দুটোকেই স্বাগত জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে। অধিকাংশ বাম দল এই ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠানই বর্জন করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনে অবসান ঘটলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
কোনও ঘোষণাপত্র ছাড়াই অভ্যুত্থান ঘটে যাওয়ার পর তার স্থায়ী স্বীকৃতির জন্য জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের দাবি তুলেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা নিজেরাই গত ডিসেম্বরে ঘোষণাপত্র ঘোষণার উদ্যেগ নিয়েছিল। তখন তাদের থামিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারই এই ঘোষণাপত্র দেবে।
তার সাত মাস পর অভ্যুত্থানের বছর পূর্তির দিন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে’ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন ড. ইউনূস।
গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসাবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে এই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করা।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহতদের জাতীয় বীর হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এই ঘোষণাপত্রে। পাশাপাশি শহীদ পরিবার, আহত এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশে রেখেই এই ঘোষণাপত্র দেন ড. ইউনূস।
এরপর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আজ এই মহান দিবসে আপনাদের সামনে এ বক্তব্য রাখার পর থেকেই আমরা আমাদের সর্বশেষ এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা এবার একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব।
“অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।”
বিএনপি
দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে বুধবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, তার সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
ঘোষণাপত্র: বিএনপির পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ফখরুল বলেছেন, “বিএনপি বিশ্বাস করে এই ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা পালনের মধ্যদিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। সুযোগ সৃষ্টি হবে একটি সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে সত্যিকারের প্রগতিশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের প্রক্রিয়া।”
জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে সংযুক্ত করার ভার পরবর্তী সরকারের ওপর দেওয়াকেও স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি।
সালাহউদ্দিন বলেন, “এটাই আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এর বাইরে অন্য কোনও প্রক্রিয়ার কথা আমাদের জানা নেই।
“সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে আমাদের দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনা শেষে যে সমস্ত বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো সনদ আকারে ‘জাতীয় জুলাই সনদ ২০০২৫’ এই নামে সংকলিত করে সকল পক্ষের স্বাক্ষরের জন্য প্রদান করা হবে। আমরা আগেই বলেছি যে, আমরা সেই সনদে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত আছি।”

নির্বাচন: লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা অনুযায়ী ড. ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় তাও স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি।
ফখরুল বলেন, “বিএনপি মনে করে, এই ঐতিহাসিক ঘোষণা বাংলাদেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠবে এবং গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করছে।
“বিএনপি মনে করে এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
ভাষণে ভোটের নির্দিষ্ট কোনও তারিখের কথা ইউনূস বলেননি। তবে সে বিষয়ে আপত্তি না তুলে তার ঘোষণাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছে বিএনপি।
ফখরুল বলেন, “প্রফেসর ইউনূস এখন পর্যন্ত যতগুলো কাজ করেছেন, তাতে করে উনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি এমন কিছু করবেন না, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
এনসিপি
জুলাই ঘোষণাপত্র ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানাতে বুধবার রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম থাকার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন না।
ঘোষণাপত্র: জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়াকে স্বাগত জানালেও কিছু বিষয়ে আপত্তি রয়েছে এনসিপির।
আখতার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “অভ্যুত্থানের এক বছর পর জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছে, সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিছু বিষয় যদি এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকত, তাহলে এই ঘোষণাপত্র আরও পরিপূর্ণ হতে বলে আমরা মনে করি।
“আমরা ঘোষণাপত্র জুলাইয়ের শহীদদের বীর হিসাবে স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। একটি দুর্নীতিমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র কাঠামো আমরা পাব। কিছু বিষয় অনুপস্থিত থেকে গেছে।”
অনুপস্থিত বিষয়গুলোর মধ্যে ৪৭ সালের ভারত ভাগের কথা বলেন তিনি। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অনুপস্থিতির কথাও তুলেছে এনসিপি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা সুস্পষ্ট না হওয়ায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আখতার বলেন, “শহীদের সংখ্যার ব্যাপারে প্রায় ১ হাজার শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ জাতিসংঘ রিপোর্টে ১৪০০ জন শহীদ হয়েছেন বলে পরিসংখ্যান আমরা সকলের জানা। সরকার যে এক বছরে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা, আহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়েছে, তার একটি ছাপ আমরা এই ঘোষণাপত্রে পেলাম।”

ঘোষণাপত্রে এনসিপির সবচেয়ে বড় আপত্তি সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী সরকারের ওপর দেওয়া নিয়ে।
আখতার বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে একটি নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। সে লক্ষ্যে গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি আমরা সরকারে কাছে করে এসেছি।
“যখন এই ঘোষণপত্রটি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, স্বভাবত আমরা যে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানে কথা বলছি, তা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হলো।”
বাংলাদেশের মানুষের যে রাজনৈতিক অভিপ্রায় তৈরি হয়েছে, তা পূরণে নতুন সংবিধানই সমাধান- এই মন্তব্য করে আখতার বলেন, “সেই সংবিধানের প্রস্তাবনায় এই ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
“একইসঙ্গে ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ কার্যকরের পন্থা হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। সেই সব সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।”
নির্বাচন: জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই কার্যকর করে তার ভিত্তিতে নির্বাচন চাইছে এনসিপি।
আখতার বলেন, “ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে সরকার যে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, তাতে আমাদের আপত্তির জায়গা নেই। কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের পূর্বে সরকারের অবশ্য কিছু কর্তব্যের জায়গা রয়েছে।
“গণহত্যাকারীদের বিচার এবং রাষ্ট্র কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কারের ম্যন্ডেট নিয়ে এই সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনের আগে বিচার দৃশ্যমান করা এবং সংস্কার বাস্তবায়ন করা এই সরকারের দায়িত্ব।”
“একই সাথে নির্বাচনের পূর্বে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে,” বলেন এনসিপির সদস্য সচিব।
জামায়াতে ইসলামী
ঢাকার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
ঘোষণাপত্র: জুলাই ঘোষণাপত্রকে একটি ‘অপূর্ণাঙ্গ বিবৃতি’ মনে করছে জামায়াত। তারা বলছে, এতে গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।
তাহের বলেন, “ঘোষণাপত্রে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের কথা বলা হলেও ১৯৪৭ এর আজাদীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, ২৮ অক্টোবরের (লগি বৈঠা আন্দোলন) হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ নেই।
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষক ও ছাত্র, প্রবাসী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ভূমিকার উল্লেখ নেই, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
রাষ্ট্র সংস্কারে বিষয়টিও ঘোষণাপত্রে না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে জামায়াত।
তাহের বলেন, “ছয়টি কমিশন গঠন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে দু’পর্বে দুই মাসেরও অধিক কাল যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং ১৯টি বিষয়ে ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“অথচ প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পঠিত জুলাই ঘোষণাপত্রে তার উল্লেখ নেই। ঘোষণায় কখন কীভাবে তা কার্যকর করা হবে, তা উল্লেখ না করে ঘোষণাকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে।”
“পরবর্তী সরকারের হাতে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়ায় হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে,” বলেন তাহের।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে সংস্কার বিফলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন দ্রুত সম্পন্ন করে অধ্যাদেশ, এলএফও বা গণভোট এর মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রদান করা না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বিফলে যাবে।”

নির্বাচন: জুলাই সনদ প্রণয়ন করে তার ভিত্তিতেই নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
তাহের বলেন, “নির্বাচনের উপযুক্ত যে পরিবেশ থাকার কথা ছিল, তা এখনও সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি।
“এজন্য প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত টাইমলাইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে আপত্তি না থাকলেও ড. ইউনূস এই ঘোষণা দেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেননি বলে হতাশা প্রকাশ করেছে জামায়াত।
তাহের বলেন, “নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করার দীর্ঘ দিনের যে ঐতিহ্য, তা উপেক্ষা করে জুলাই ঘোষণার দিনেই নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে।
“আমাদের প্রত্যাশা ছিল, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করবেন। তা না করায় জাতি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে। তথাপি জাতীয় স্বার্থে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।”
নির্বাচনের জন্য জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তাহের বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সরকার ও প্রশাসন মধ্যে স্বৈরাচারের দোসরমুক্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের সব স্তরে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
সেই সঙ্গে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন তাহের।
গণঅধিতার পরিষদ
পুরানা পল্টনে আল রাজি কমপ্লেক্সে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের ঘোষিত সময় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান দলটির সভাপতি নুরুল হক নূর।
ঘোষণাপত্র: জুলাই ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছে না গণঅধিকার পরিষদ।
নুরুল হক নুর বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার জন্য সরকারকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়। তবে তা জানাতে হচ্ছে অর্ধেক সন্তুষ্টি নিয়ে, অর্ধেক অসন্তুষ্টি নিয়ে।”
ঘোষণাপত্র প্রণয়নেও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযাগ তুলে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে গঠিত এই সরকার আমাদের সকলের সরকার। কিন্তু আমরা সরকারকে যতটা ধারণ করেছি, সরকার আমাদের ততটা ধারণ করে নাই। সরকার শুধূ ধারণ করেছে এনসিপিকে।”
ঘোষণাপত্রে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুর, যার নেতৃত্বে আন্দোলনেই কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল, যার এক সময়ের অনুসারীরাই ২০২৪ এর অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।
নুর বলেন, “ইতিহাস বিকৃতি এই ঘোষণাপত্রে থাকবে, তা আমরা আশা করিনি। বলা হয়েছে, এই আন্দোলন না কি শুরু হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কোথায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে? এই আন্দোলনের ব্যানারে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল, ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে। প্ল্যাটফর্মটি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
“মনগড়া ইতিহাস লেখা যায় না। আওয়ামী লীগ যেমন একাত্তর নিয়ে একটি ন্যারেটিভ বিনির্মাণের চেষ্টা করেছে, আমরা দেখছি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে একটি গোষ্ঠী মনগড়া ইতিহাস বিনির্মাণের চেষ্টা করেছে।
এই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার আগে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, বিএনপি, জামায়াত, এনপিসি এই মিথ্যাচারের স্বীকৃতি দিয়েছে কি না?”
ঘোষণাপত্রে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা সুস্পষ্ট না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা এক বছরের মধ্যেও কেন একটি সঠিক ইতহাস, সঠিক তথ্য দিতে পারি নাই, এই ব্যর্থতা সরকারের। ঢাকঢোল পিটিয়ে একটি ঘোষণাপত্র হাজির করলেন, সেটাতেও শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে।”
সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব পরবর্তী সরকারের হাতে দিলে এখন ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলে নুর বলেন, “পরবর্তী নির্বাচিত সরকারই যদি সংবিধানে যুক্ত করবে, তাহলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নমে এই তামাশার তো কোনও দরকার নাই?
“ঘোষণাপত্রে জুলাই সনদের কথা উল্লেখ নাই। জন আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ রচিত হবে- এই কথাটুকুও যদি উল্লেখ থাকত, তাহলে এই সনদের একটি আইনি িভত্তি থাকত। কিন্তু সেটা হয়নি।”
ঘোষণাপত্রে উপনেবেশিক যুগ থেকে শুরু করে ৪৭, ৭১ এর ইতিহাস টানা অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন নুর। বরং গত দেড় দশকে সংগ্রামের বিবরণ থাকা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।
নুর বলেন, “মূল ঘটনাকে এড়িয়ে একটি অস্পষ্ট ইতিহাস কার স্বার্থে উপস্থাপন করা হয়েছে, কারা এটা তৈরি করেছে, তা আমরা জানতে চাই।
“আমরা ১৫ দিনের আন্দোলনে নেতা হই নাই। ডিবি হারুনের ভাতের হোটেলে গিয়ে অনেকে যখন কমপ্রোমাইজ করেছে, বাধ্য হয়ে হয়ত আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা দুই দফা রিমান্ডে থেকেও বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলেছিলাম। আজকে অনেকে ১০-১৫ দিনের আন্দোলনে হিরো হয়ে গেছেন!”

এনসিপির দিকে ইঙ্গিত করে নুর বলেন, “অন্যদের সব অবদানকে ম্লান করে আজ সরকারকে ব্যবহার করে কিংস পার্টি গঠন করা হয়েছে। সেই কিংস পার্টির কার্যকলাপ আপনারা দেখছেন। সে কিংস পার্টি আজ তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে, রাজনীতিকে কলুষিত করছে।”
কিংস পার্টিকে ‘আসকারা’ দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করে সেই দায় মোচনে তাদের অপরাপর রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান নুর।
নির্বাচন: জুলাই সনদ ঘোষণা করে তার ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন চাইছে গণঅধিকার পরিষদ।
নুর সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “জোড়াতালি দিয়ে যদি নির্বাচন করতে চান, তাহলে নূরুল হুদার মতো পরিণতি হবে।”
ভোটের সময় নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখি, কিন্তু নির্বাচন করার জন্য যে এলিমন্টেগুলো প্রয়োজন- প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত, সৎ-দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশাসন ঢেলে সাজানো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি- সেই কর্মযজ্ঞ শুরু করতে হবে।
“এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষ চরিত্র আমরা দেখতে পাই নাই। একটি দলকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিচ্ছে, অনিবন্ধিত দল … তাদের নিয়ে সমস্ত কর্মকাণ্ড চলছে জেলা লেভেলে, উপজেলা লেভেলে, অন্য অনেক দলকে, অভ্যুত্থানের অংশীজনকে দাওয়াতও দেওয়া হয় না। এই প্রশাসন কী করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে?”
“নির্বাচন আমরা চাই। নির্বচন জানুয়ারিতেও যদি করেন, ডিসেম্বরেই যদি করেন, আমাদের আপত্তি নাই। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে,” বলেন নুর।
“জুলাইয়ে যে আকাঙ্ক্ষা, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কার, রাষ্ট্র পুনর্গঠ্ন, নাগরিকদের অাধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠা, ভভিষ্যতে ফ্যাসিবাদ আসার পথ বন্ধ করার মধ্য দিয়ে জুলাইয়ো আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করে তবেই নির্বাচনের দিক েযতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
জুলাই ঘোষণাপত্র এবং প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আইএবি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানান।
ঘোষণাপত্র: জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করায় সরকারের সমালোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন।
ফজলুল করিম বলেন, “ঘোষণার আগে এটা আমরা দেখি নাই। জাতির এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল উপস্থাপনার আগে থেকে না জেনে উপস্থিত থেকে তাতে সমর্থন জানাতে হয়েছে এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর ছিল। তারপরও প্রত্যাশিত দিনে জুলাই ঘোষণাপত্র পঠিত হয়েছে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ।”
জুলাই ঘোষণাপত্রে ৪৭ এর ইতিহাস, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং আলেম-উলামাদের ওপর নির্যাতনের কথা না থাকােক বৈষম্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলুল করীম বলেন, “ঘোষণাপত্রের বিভিন্ন ধারায় হাসিনা ও আওয়ামী অপকর্মের উল্লেখ আছে। ১৭তম ধারায় জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের উল্লেখ আছে। কিন্তু কোথাও ফ্যাসিবাদের দোসর রাজনৈতিক, সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির উল্লেখ নাই। এটা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথ খুলে দেবে।”
জুলাই অভ্যুত্থানের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির দায়িত্ব পরবর্তী সরকারের ওপর দিয়ে একে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছে ইসলামী আন্দোলন।

নির্বাচন: জুলাই সনদ প্রণয়ন করে তার ভিত্তিতেই নির্বাচন চাইছে ইসলামী আন্দোলন।
ফজলুল করীম বলেন, “জুলাই সনদ এখনও না হওয়া আমাদেরকে সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তায় নিক্ষেপ করেছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, অধ্যাদেশ জারি বা গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি তৈরি করতে হবে এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।”
সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি আবারও জানান তিনি।
“অভ্যুত্থানের পরে পিআরের পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠন হয়েছে এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। পিআর নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই নির্বাচনের মাস নির্ধারণ করা জনদাবির প্রতি স্পষ্টত উপেক্ষা।”
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের আহ্বানও জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
বাম গণতান্ত্রিক জোট
সিপিবি-বাসদ নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র উপস্থাপনের অনুষ্ঠানই বর্জন করে।
মঙ্গলবার বিকালে এই জোট ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে। বাম-গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদের (মার্কসবাদী) প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।
ঘোষণাপত্র: বাম জোটের সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। বিশেষ দু’একটি দলের সঙ্গে কথা বলে যে ঘোষণাপত্র করা হলো, তার দায়-দায়িত্ব তারা নেবে না। এজন্য ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও তারা যোগ দেয়নি।
গণঅভ্যুত্থানে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজের স্লোগান সামনে এলেও বৈষম্যমুক্তির পথ নিয়ে কোনও আলোচনা ঐকমত্য কমিশনে হচ্ছে না দাবি করে তারা বলেন, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচনসহ জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়নি। নারী অধিকার নিয়ে কথা হলেও এর বিরুদ্ধাচারণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে দেশের রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সক্রিয় হয়েছে। এরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে এর অর্জন, ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চাইছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেই নিজেকে বিতর্কিত করে ফেলেছে। বিশেষ দল ও গোষ্ঠীর প্রতি তাদের পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জাসদ) ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠান বর্জন করে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য আনার বদলে বিভাজন সৃষ্টির নীতি অনুসরণ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর সর্বশেষ উদাহরণ, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া। আমাদেরকেও বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা কেবল দর্শক হিসেবে সেখানে যেতে পারি না।”
নির্বাচন: এই বছরেরমধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বাম জোটের সমাবেশে বলা হয়, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ছিল সাধারণ ছাত্র-শ্রমিক-জনতা। এক বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। এ অবস্থা পরিবর্তনে এই বছরের মধ্যে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম অগ্রসর করতে হবে।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বাম জোটের নেতারা বলেন, যেকোনো অজুহাতে নির্বাচন পেছানো হবে আত্মঘাতী। কারণ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অগ্রসর করতে এই মুহূর্তে দরকার নির্বাচিত সরকার।



