Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বাড়ি ফিরল মাইলস্টোনের ২ শিক্ষার্থী, এখনও আশঙ্কাজনক ৪ জন

মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের বেশিরভাগই রয়েছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের বেশিরভাগই রয়েছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
[publishpress_authors_box]

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর এই প্রথম দুই শিক্ষার্থী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তাদের একজনের নাম রাফসি; আরেকজনের নাম আয়ান। দুজনের বয়সই ১২ বছর।

বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে শনিবার জানানো হয়েছে, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখনও আরও ৪ জন শঙ্কাটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

রাফসি ও আয়ান দুই শিশুই অরেঞ্জ ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিল ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমের অধীনে।

ডা. ফোয়ারা তাসমীম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এই দুই শিশুই তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। রাফসির হাতে ও নাকে আর আয়ানের হাতে কানে ছিটেছিটে পোড়া ছিল। জটিলতাও ছিল কম। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

“তবে ডায়রিয়া জ্বর বা অন্য যেকোনো জটিলতায় যদি তারা অসুস্থবোধ করে, তাহলে সরাসরি আমার এখানে চলে আসার জন্য বলা হয়েছে অভিভাবকদের।”

বাচ্চারা বাড়ি যাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “বাচ্চারা অস্থির ছিল। এখানকার চিকিৎসা শেষে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ সবকিছু অভিভাবকদের বলেছি আমরা। নিয়মিত ফলোআপে আসবে। সেইসঙ্গে ট্রমা কাটানোর জন্য সাইকিয়াট্রির সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলেছি। আর যেকোনো সময়ে, যেকোনো প্রয়োজনে আমরাতো আছিই।”

‘এর সঙ্গে আরেকটা ভালো খবরও রয়েছে’ মন্তব্য করে ডা. ফোয়ারা তাসমীম বলেন, “দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আরও মিনিমাম ৮ থেকে ১০ জনকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। যদি খারাপ কিছু না ঘটে। তবে তাদের নিয়ে আমরা আশাবাদী, অবস্থার উন্নতি হবে।”

শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন জানান, বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছে ৩৬ জন। তাদের মধ্যে ‘ক্রিটিক্যাল’ ৪ জন ও ‘সিভিয়ার’ ৯ জন।

তিনি বলেন, “প্রথমত দুঃখের সংবাদ হচ্ছে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা আপনাদের আগেই জানিয়েছিলাম, আজকে থেকে রিলিজ দেওয়া শুরু হবে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা দুই শিশুকে রিলিজ দিয়েছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে আরও ১০ জনকে আমরা ছেড়ে দিতে পারব।”

ডা নাসির বলেন, “ক্রিটিক্যাল ৪ জন রোগী আইসিইউতে আছেন। তাদের মধ্যে একজন ভেন্টিলেশনে আছেন। বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। আমাদের ৬টা ইউনিটের চিফের নেতৃত্বে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি টিম তাদের সাপোর্ট করছে।

“ভারতে থেকে ২ জন ডাক্তার ও ২ জন নার্স, চায়না থেকে ৩ জন ডাক্তার ও ২ জন নার্স এসেছে। সিঙ্গাপুর থেকে ৯ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ৩ জন ডাক্তার বাকিরা সাপোর্টিভ স্টাফ।”

রোগীদের জন্য সব ধরনের ওষুধও মজুদ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গত ২১ জুলাই সোমবার রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের বেশিরভাগ শিশু।

তাদের মধ্যে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা ১৩ বছর বয়সী জারিফ ফারহানকে শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এর এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয় স্কুলের অফিস সহায়ক ৩৮ বছর বয়সী মাসুমাকে।

তাদেরকে নিয়ে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে ১৭ জনের মৃত্যু হলো। আর এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫ জনে। 

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found