অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন যারা, এক বছর পর তাদের মধ্য থেকে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠল।
মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে ইঙ্গিত করে এই অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বুধবার চাঁদপুরে জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে বলেন, “আমাদের একজন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আছেন, চেনেন উনাকে? উনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাই-ব্রাদার কোটায় এসেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় এক্সাম্পল হচ্ছেন এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।”
যে অভ্যুত্থানে গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন হাসনাত।
অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনূস বলেছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাই তার ‘নিয়োগকর্তা’, তাদের অনুরোধেই এই দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
গত বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূস যে সরকার গঠন করেন, তাতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান গ্রামীণ ব্যাংকে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী নূরজাহানকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশাপাশি গ্রামীণ শক্তি এবং গ্রামীণ শিক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদেও দায়িত্ব পালন করেন। গ্রামীণ ব্যাংক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষও ছিলেন তিনি।
গত সোমবার ঢাকার মাইলস্টোন কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে নূরজাহান বেগমের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তিনি বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গেলেও সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা যাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।
জুলাই অভ্যুত্থানের বছরপূর্তিতে অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল এনসিপি দেশজুড়ে পদযাত্রা করছে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির কারণে তারা কর্মসূচিতে কিছুটা ভিন্নতা এনে চাঁদপুরে শোকসভা করে। সেখানে বক্তব্যেই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।
হাসনাত বলেন, “সব সময় বলে আসছি, এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, এর কোনও প্রয়োজন নেই। আপনারা দেখছেন উনার কোনও অ্যাক্টিভিটি? উনি যে বেতনটা নেয়, ওটা হারাম; উনি যে গাড়িটায় চড়েন, ওটা জনগণের সঙ্গে বেঈমানি।
“এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কোনও কাজের না। উনি কিচ্ছু বোঝেন না। উনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বোঝেন না, উনি চিকিৎসা বোঝেন না। উনার একমাত্র যোগ্যতা উনি গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলেন, উনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের খুব কাছের মানুষ।”
নূরজাহান বেগমের পদত্যাগ দাবি করে হাসনাত বলেন, “এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা লইয়া আমরা কী করিব? উনি নিজের চিকিৎসা করাইতে সিঙ্গাপুর যান। উনি এতদিন যত বেতন নিয়েছেন, তা অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে উনার পদত্যাগ করা উচিৎ।”
অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আশা দেখানো এই তরুণ নেতা হতাশ কণ্ঠে বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও আগের মতো, আমাদের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাও আগের মতো।”



