মাস দেড়েক আগে পাকিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। বিধ্বস্তও হয়েছে ৩-০ ব্যবধানে। আজ থেকে আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন সিরিজে মুখোমুখি লিটন দাসের দল। নতুন সিরিজেও চ্যালেঞ্জটা পুরোনো।
পাকিস্তানকে এর আগে কখনও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ (এক ম্যাচের বেশি সিরিজে)। মুখোমুখি ২২ ম্যাচে জয়ই কেবল ৩টি। এবার তাই পাকিস্তান বধের স্বপ্ন নিয়েই খেলবেন লিটনরা। আশাবাদী হওয়ারও কারণ আছে। বাংলাদেশ যে ৩ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছে এর একটি সবশেষ এশিয়া কাপে হাংজুতে। সেখানে দুই দেশের মূল দল খেলেনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের দুটি জয়ের দুটিই এসেছে মিরপুরে। ২০১৫ সালে ৭ উইকেটে আর ২০১৬ সালে মিরপুরে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার তিন ম্যাচের সিরিজের তিনটিই হবে মিরপুরে। তাই আশাবাদী হতেই পারে লিটন দাসের দল।

এশিয়া কাপের আগে এটাই শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাংলাদেশের। তাছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ব্যাপারও আছে। লিটন দাস অবশ্য এত কিছু না ভেবে থাকতে চান বর্তমানে, ‘‘আমি তো বর্তমানেই আছি, আপনারা নেই। আমি যখন এখানে দাঁড়িয়ে, আমাকে যদি বর্তমান নিয়ে প্রশ্ন করেন, আমি বর্তমান নিয়েই উত্তর দেব। আমাদের দলটাই এখন বর্তমান নিয়ে ভাবছে। আগামীকাল খেলা—এ অবস্থায় ছয় মাস পর কী হবে, সেটা ভেবে লাভ কী?’’
বাংলাদেশ পরীক্ষা–নিরীক্ষায় যাবে কি না—এমন প্রশ্নে লিটন জানালেন , ‘‘এ মুহূর্তে এটিই আমাদের সেরা দল। তবে বাংলাদেশে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছে। প্রয়োজন হলে তারাও আসবে। এতজন আছে যে নাম বলতে গেলে হয়তো কারও নাম বাদ পড়ে যেতে পারে।’’
পাকিস্তানকে হারাতে হলে যে সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে লিটন দাস মনে করিয়ে দিলেন সেটা, ‘‘আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে হবে। সবকিছু তৈরি হয় ইতিহাস হওয়ার জন্য। আর রেকর্ড কিন্তু ভাঙাও হয়। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলি, রেকর্ড ভাঙতে সময় লাগবে না। ওই রেকর্ডের চিন্তা না করে, আমরা কী করতে পারি, আমাদের কতখানি সামর্থ্য আছে, কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেসব ভাবলে ওই সব জিনিসই বদলে যাবে।’’

পাকিস্তানের ১৬ জনের স্কোয়াডে এমন ৯ জন ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা বিপিএলে খেলেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বলেছেন পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আলি আগা, ‘‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিপিএল খেলেছে। যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের ইনপুট ও অভিজ্ঞতা নেওয়া। তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের ইনপুট দিয়েছে, আমরা ওই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’’
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই যুগে এটাকে অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন লিটন দাস, ‘‘এটা দুই দিক থেকেই কাজে দেবে। তারা যেমন আমাদের শক্তি-দুর্বলতার জায়গা জানবে, আমরাও তাদের সঙ্গে খেলে, তাদের শক্তি-দুর্বলতা জানি। তাই আমার মনে হয় না, খুব একটা সমস্যা হবে। তবে ইকুয়েলি এটা খুব ভালো দিক।’’
২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরের উইকেট মরণ ফাঁদ হয়ে উঠেছিল। অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সিরিজ জিতেছিল নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেও।
মিরপুরের কঠিন উইকেট নিয়ে লিটন বললেন, ‘‘ব্যাটসম্যানের যে সব সময় সমস্যা হয় তা না। পরিষ্কার করে দিই, নির্দিষ্ট দুইটা সিরিজ ব্যাটসম্যানদের একটু সমস্যা হয়েছে। চ্যালেঞ্জিং থাকে, স্পিনারদের বল স্পিন করে। ব্যাটসম্যানরা রান করে না তা নয়, রানও হয়।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘১০ বছর ধরে তো এভাবেই খেলছি। আর কত সেট করব? পারফর্ম করতে পারছি না, এটা একটা জায়গা আছে, যে ধারাবাহিক পারফর্ম করি না। এটা আমি সব সময় চেষ্টা করছি।’’



